জেরুজালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদে যুদ্ধ ও তীব্র উত্তেজনার মধ্যেও বুধবার (২৭ মে) হাজার হাজার মুসল্লি ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেছেন। মসজিদের বিশাল চত্বর জুড়েই অনেকে একসঙ্গে ইবাদত করেছেন—ঈদের এই পবিত্র মুহূর্তেও ভীড় ও আধ্যাত্মিকতা স্পষ্ট ছিল।
ঈদুল আজহা মহান আল্লাহর নির্দেশে হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর ত্যাগের স্মরণে পালন করা একটি ধর্মীয় উৎসব। নিজেদের সীমিত সুবিধা ও ঝুঁকির মধ্যেও ফিলিস্তিনিরা এই ত্যাগ ও বিশ্বাসের প্রতীক ধরে মসজিদে সমবেত হয়েছেন এবং কুরবানি ও দান-দাক্ষিণ্যের মাধ্যমে তাদের আধ্যাত্মিক উৎসবটি পালন করছেন।
তবে আনন্দের আবহেই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন ও গাজায় চলমান অস্থিরতা তাদের মনস্তত্ত্বকে বিষণ্ণ করে তুলেছে। গাজার স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে সংঘর্ষে অন্তত ৮৮০ জন নিহত হয়েছেন এবং ২,৬৪৫-এর বেশি মানুষ আহত হয়েছেন—এগুলোই ওই সময়ে আদায়কৃত হতাহতের কিছু সংখ্যা।
দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই সংঘাতে মোট মিলিয়ে সাড়ে হাজার হাজার নয়—প্রতিবেদনগুলো বলছে এ পর্যন্ত ৭২ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, আহতের সংখ্যা ১ লাখ ৭২ হাজার ছাড়িয়েছে এবং গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক স্থাপনা ধ্বংস বা অপব্যবস্থায় পড়ে আছে। এসব ক্ষতির কষ্ট এখনো পরিবারগুলোর ঈদ উদযাপনে গভীর ছাপ রেখে যাচ্ছে; অনেকের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উৎসবের আনন্দ সীমিত রয়েছে এবং স্বজন হারানোর বেদনা কাঁটা হয়ে আছে।
এই কঠিন পরিবেশে আল-আকসায় নামাজকৃত মুসল্লিরা নীরব প্রার্থনায় শান্তি ও মুক্তির কাছে আবেদন জানিয়েছেন। যুদ্ধ ও বিধ্বস্ত জীবনের মাঝে ধর্মীয় বিশ্বাস ও একে অপরের প্রতি সহানুভূতি মেলাতে তারা ঈদকে এক ধরনের আশা ও সহায়তার দিন হিসেবে ধরে রেখেছেন।
ঈদের দিনটি ছিলেই—কিন্তু তার সঙ্গে ছিল ট্রাজেডি ও অনিশ্চয়তার ছায়া। কাঁদা, ধ্বংসস্তূপ ও ক্ষতবিক্ষত জীবনের মাঝেও ফিলিস্তিনিরা ভিন্ন রকমের দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছে: ধর্মীয় বিশ্বাসে আটকে থাকা এবং শান্তি ফিরে আনার আকাঙ্ক্ষা।







