ঢাকা | বুধবার | ২২শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৮ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

ডেঙ্গু প্রতিরোধে মোবাইল কোর্ট ও বিশেষ অভিযান শুরু

ডেঙ্গুর বিস্তার রোধ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে আগামী দুই থেকে তিন দিন পর পর মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, যেসব প্রতিষ্ঠানে ডেঙ্গু মশার লার্ভা পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং জরিমানা আরোপ করা হবে। শনিবার সকালে ধানমণ্ডির রবীন্দ্র সরোবরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসের একটি বিশেষ অভিযানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এবারের ডেঙ্গুর পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ হতে পারে, এবং চিকিৎসকদের আশঙ্কা অনুযায়ী এই ডেঙ্গু ধরণটি খুবই বিপজ্জনক, যা ‘হেমোরেজিক’ ডেঙ্গু নামে পরিচিত। এই ধরনের ডেঙ্গু রোগীরা শরীরে দ্রুত রক্তক্ষরণের ঝুঁকিতে থাকেন। তাই সাধারণ মানুষকে আগেভাগেই সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে ডেঙ্গু মশার উৎপত্তিস্থল ধ্বংস করা হবে এবং নগরবাসীকে সতর্ক করা হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র আব্দুস সালাম, যিনি জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, সিটি করপোরেশনের জরিপ অনুযায়ী রাজধানীর ৬৩টি ওয়ার্ড বর্তমানে ডেঙ্গুর ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, যার মধ্যে ২৮টি ওয়ার্ডকে ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাধারণ মানুষ ও সিটি করপোরেশনের প্রত্যেকে যদি নিজেদের দায়িত্ব পর্যাপ্তভাবে পালন করে, তাহলে এই বিপর্যয় মোকাবিলা সম্ভব হবে।

এই সমন্বিত উদ্যোগটি মূলত আগামী বর্ষা মৌসুমের প্রাক্কালে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে, সরকারের এই পদক্ষেপগুলো ডেঙ্গু রোগের বিস্তার রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।