ঢাকা | সোমবার | ৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৫শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২২শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

নতুন যুদ্ধবিরতির পরও লেবাননে ইসরাইলি বিমান হামলা — ৩ সেনাসহ ৯ নিহত

নতুন যুদ্ধবিরতির কয়েকদিনAfterগতেও দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে তিনজন লেবাননের সেনাবাহিনী সদস্য রয়েছেন। লেবাননের সেনাবাহিনী আহতদের সংখ্যা সম্পর্কে বিস্তারিত নয় বললেও, ঘটনার জন্য গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

লেবাননের সেনাবাহিনী শনিবার এক বিবৃতিতে জানায়, নাবাতিয়েহ শহর ও মারজাইউন শহরের সংযোগ সড়কে একটি গাড়িতে বিমান হামলায় একটি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল, একজন ক্যাপ্টেন এবং আরও একজন সেনা সদস্য নিহত হন। নিহত কর্মকর্তাদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

একই দিন দক্ষিণাঞ্চলের সাকসাকিয়াহ গ্রামে আরেকটি বিমান হামলায় ছয়জন নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন বলে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) জানিয়েছে। বিস্তৃত পরিস্থিতি এখনও অস্থির এবং জরুরি তদন্ত চলছে।

লেবাননের সেনাবাহিনী বিবৃতিতে বলেন, ‘‘লেবানন, তার জনগণ এবং সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ইসরাইলের ধারাবাহিক, পরিকল্পিত ও পুনরাবৃত্ত আগ্রাসন আমাদের দৃঢ়তা, বিশ্বাস ও সংকল্পকে আরও দৃঢ় করছে।’’ তারা দাবি করেছে যে এসব হামলার উদ্দেশ্য ছিল লেবাননে স্থিতিশীলতা পুনঃস্থাপন এবং একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করা।

অন্যদিকে ইসরাইলি সেনাবাহিনী একটি গাড়িতে হামলার বিষয়টি স্বীকার করেছে। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কফার তিবনিত গ্রামের কাছে অবস্থানরত ইসরাইলি সেনাদের দিকে হিজবুল্লাহ হামলা চালাতে পারে — এমন সন্দেহজনক তথ্য পাওয়ার পর সন্দেহজনকভাবে চলাচলরত একটি গাড়িকে লক্ষ্য করে হামলা করা হয়। তারা জোর দিয়ে বলেছে, তাদের লক্ষ্য ছিল হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে করা অভিযান, লেবাননের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নয়।

এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন লেবাননের রাষ্ট্রপতি জোসেফ আউন। তিনি এটিকে লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং বলেন, ওয়াশিংটনে চলমান আলোচনা থাকা সত্ত্বেও এই ধরনের হামলা দক্ষিণ লেবাননের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে মারাত্মকভাবে ঝুঁকিতে ফেলে।

পরিপ্রেক্ষিত হিসেবে বলা যায়, সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে হয়েছে। লেবানন সরকার দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে হিজবুল্লাহ তাদের দেশকে যুদ্ধে টেনে দিয়েছে এবং সংগঠনটিকে নিরস্ত্র করার চেষ্টা চালিয়েছে; তবে হিজবুল্লাহ নতুন যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।

ইরানের ভূমিকা নিয়ে সরাসরি আক্রমণাত্মক মন্তব্যও চলে এসেছে। শুক্রবার প্রেসিডেন্ট আউন ও লেবাননের প্রধানমন্ত্রী ইরানকে সমালোচনা করেন; 이에 শনিবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক্সে জানান, আউনের ভাষা ভুলধারণা থেকে উদ্ভূত এবং ইরানকে দায়ী করার আভাস অযৌক্তিক। তিনি বলেন, লেবানন যদি ইরানের ‘দরকষাকষির হাতিয়ার’ হত, তাহলে আগেই সমঝোতা হয়ে যেত।

সংঘাতের সূত্রপাত ২ মার্চ থেকে, যখন হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরাইলে রকেট হামলা চালায়। এর আগে দুদিন ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করেছিল। এরপর থেকে ইসরাইল লেবাননে স্থল অভিযান ও বিস্তৃত বিমান হামলা চালায়, যার ফলে এক কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন—লেবাননে ১০ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত বা বাস্তুচ্যুত হয়েছে। শতাধিক শহর ও গ্রামে ধ্বংসস্তুপ ও অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে।

বর্তমানে ইসরাইলি বাহিনী লেবাননের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ডের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে, যা ১৯৮২-২০০০ সালের দখলের পর থেকে সবচেয়ে গভীর অনুপ্রবেশ বলে বলা হচ্ছে। সংঘাত শুরুর পর লেবাননে ৩ হাজার ৫০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। একই সময়ে অন্তত ২৯ জন ইসরাইলি সেনা এবং তিনজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।

ঘটনাস্থল ও দায়িত্বরত কর্তৃপক্ষদের বক্তব্য নিয়ে খতিয়ান ও অভিযোগ-প্রতিবাদ চলমান রয়েছে। এতে নতুন যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি কার্যকর হচ্ছে কিনা এবং তাতে কবে শান্তি ফিরবে—এ নিয়ে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।