ঢাকা | মঙ্গলবার | ১৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১লা মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

সম্পূরক বাজেটে ব্যয় কমিয়ে ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা; ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ কোটি

জাতীয় সংসদে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত ও সম্পূরক বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। প্রস্তাবিত সংশোধিত বাজেটে সরকারের মোট ব্যয় ২ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাজেট ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ কোটি টাকা, যা জিডিপির প্রায় ৩.৩ শতাংশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বাজেটটি সংসদে সোমবার উত্থাপন করা হয়—এর দিনটি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের সপ্তম দিন ছিল।

অর্থমন্ত্রী জানান, চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে সরকারের নিট ব্যয় ছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু নির্বাচন-পূর্ববর্তী সময়ে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন কিছুটা মন্থর হওয়ায় সংশোধিত বাজেটে মোট ব্যয় কমানোর প্রস্তাব আনা হয়েছে। তাই মোট ব্যয় ২ হাজার কোটি টাকা হ্রাস করে নতুন পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার হচ্ছে বৈশ্বিক অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক দুর্বলতা কাটিয়ে দেশের অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করা। এজন্য সরকারি ব্যয়ে অপচয় রোধ, অগ্রাধিকারহীন খাতে ব্যয় সংকোচন এবং প্রশাসনিক মিতব্যয়িতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকি সমন্বয় করা হয়েছে এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। সরকারি উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ইমাম, পুরোহিত ও মুয়াজ্জিনদের সম্মানী প্রদানের মতো উদ্যোগ, যেগুলোর ব্যয় মেটাতেই সম্পূরক বাজেটে ব্যয় ও ঘাটতির সমন্বয় করা হয়েছে।

বাজেট উপস্থাপনের পর স্পিকার সংসদে দায়িত্বযুক্ত ব্যয় (charged expenditure) ব্যতীত অন্যান্য ব্যয়ের মঞ্জুরি দাবির ওপর ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু করেন। তিনি বলেন, সংবিধানের ৮৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দায়যুক্ত ব্যয় সংসদে আলোচনা করা হলেও তা ভোটের আওতায় বিধৃত নয়।

স্পিকার জানিয়েছেন, সম্পূরক বাজেটে মোট ২৫টি মঞ্জুরি দাবি রয়েছে। এগুলোর বিপরীতে বিরোধী দল থেকে ২০ জন সংসদ সদস্য মোট ৩০৪টি ছাঁটাই প্রস্তাবের নোটিশ দিয়েছেন।

সময় সীমাবদ্ধতার কারণে প্রথম পর্যায়ে অর্থ বিভাগ, পরিকল্পনা বিভাগ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয় এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)সহ আটটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ওপর উত্থাপিত ছাঁটাই প্রস্তাব আলোচনা করা হবে। বাকি মঞ্জুরি দাবিগুলো সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নিষ্পন্ন করা হবে।

সংক্ষিপ্তভাবে, সংশোধিত ও সম্পূরক বাজেটের মূল বিষয়গুলো—মোট ব্যয়ের সামান্য হ্রাস, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সম্প্রসারণ এবং ঘাটতি সীমাবদ্ধ রাখার মাধ্যমে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার চেষ্টা—এগুলোই এ বাজেটের মেরুদণ্ড বলে মনে করা হচ্ছে।