ঢাকা | রবিবার | ২১শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

খুলছে বাংলাদেশের জন্য নতুন অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক দ্বার

আজ রোববার বিকেলে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন। এই সফর শেষে তিনি আগামীকাল চীন সফরে যাবেন, যা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই উভয় সফর বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন দ্বার উন্মোচনে সহায়ক হতে পারে।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফর শুরু হচ্ছে বাংলাদেশে আওয়ামী সরকার ক্ষমতাচ্যুতের পরে, যেখানে নতুন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বাংলাদেশে এই প্রথমবারের মতো এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ দু’দেশের সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মালয়েশিয়া ও চীন সফরে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শ্রমবাজার, রোহিঙ্গা ইস্যু, বিনিয়োগ, সহযোগিতা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়।

মালয়েশিয়ার সঙ্গে এই সফরে বিশেষ দৃষ্টি থাকবে শ্রমবাজার পুনরুদ্ধার, আসিয়ানে বাংলাদেশের যোগদান, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন ও দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা। ২২ জুন পত্রজায় প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একান্ত আলোচনা করবেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে। এরপর উভয় দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হবে, যেখানে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, হালাল অর্থনীতি, কৃষি, শিক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়নের মতো বিষয়গুলো আলোচনা করা হবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছেন, এই সফরে অন্তত ২০-২৫টি সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে শ্রমবাজারের প্রত্যাবর্তন, প্রবাসী শ্রমিকের কল্যাণ, সাংস্কৃতিক বিনিময়, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, এবং রোহিঙ্গা মুলতুবি প্রত্যাবাসনসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কুয়ালালামপুরে সাংঙ্গিলা হোটেলে থাকবেন, যেখানে সফরের বিভিন্ন পরিকল্পনা অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও সমঝোতা স্বাক্ষর হবে। এই সফর শেষে তিনি চীনে যাবেন। ২২ জুন দুপুর ৩টায় মালয়েশিয়া থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রস্থান করবেন এবং চীনে পৌঁছাবেন ২৩ জুন। সেখানে চার দিনব্যাপী বিভিন্ন সভা, সম্মেলন ও আর্থিক প্রস্তাবনা নিয়ে আলোচনা হবে।

চীনে এই সফরে মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে বিনিয়োগ, তিস্তা মহাপরিকল্পনা, মোংলা বন্দরের উন্নয়ন, উচ্চ প্রযুক্তি সহযোগিতা এবং বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি সম্প্রসারণ। ইতিমধ্যে ১৬টি সমঝোতা ও ৩টি চুক্তি সইয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়াও চীনের স্টেট কাউন্সিল প্রধানের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ নৈশভোজ ও বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

অতিরিক্ত চুক্তি ও সমঝোতার মধ্যে থাকছে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৫-১৭টি বিভিন্ন বিষয়ে সমঝোতা। এর মধ্যে উচ্চমানের পণ্য রপ্তানি, প্রাথমিক বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও মানবসম্পদ উন্নয়নের উদ্যোগ রয়েছে। তবে এই সফরে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বা নির্দিষ্ট সমঝোতা স্বাক্ষর হবে না বলে জানা গেছে।

সফরকালে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম, নিউ চ্যাম্পিয়নস সম্মেলন ও বিভিন্ন ব্যবসায়িক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এতে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি অংশ নেবেন। চীন ও মালয়েশিয়ার এই সফর বাংলাদেশ-আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সফর বাংলাদেশের জন্য নতুন বিনিয়োগের দ্বার উন্মোচন করবে এবং আঞ্চলিক সংঘর্ষ এড়াতে দেশের কূটনীতি ও বৈদেশিক সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে সতর্কবার্তা হিসেবে মনে রাখা জরুরি, বেশি নির্ভরশীলতা বা শক্তিশালী একক সম্পর্কের দিকে ঝুঁকে না পড়া।

প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এই সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও, এতে যোগাযোগের ভারসাম্য ও দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হবে। এর ফলে বাংলাদেশের জন্য সুফল আসবে বলেই বিশ্লেষকরা মত প্রকাশ করছেন।