বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই দেশে ডেঙ্গু সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, নতুন করে একজনের মৃত্যু হলে এই মাসে ডেঙ্গু-related মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮-এ। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যু হয়েছে ১৩ জন।
অধিদপ্তরের বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) প্রকাশিত নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় (২৪ জুন সকাল ৮টা থেকে ২৫ জুন সকাল ৮টা) দেশে নতুন করে ১৯৮ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে ১২৬ জন পুরুষ এবং ৭২ জন নারী। একই সময়ে মারা যাওয়া এক রোগী ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা, বয়স ৩১ থেকে ৩৫ বছরের একটি পুরুষ বলে জানানো হয়েছে।
এ পর্যন্ত চলতি বছরে হাসপাতাল ভর্তি করা ডেঙ্গু রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫,৫১৫ জন — যার মধ্যে পুরুষ রোগীর সংখ্যা ৩,৪২৯ জন (৬২.২%) এবং নারী ২,০৮৫ জন (৩৭.৮%)।
বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বছরের শুরু থেকে সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন বরিশাল বিভাগে (১,৪৮৯ জন)। দ্বিতীয় স্থানে আছে চট্টগ্রাম বিভাগ (১,০৩৪ জন)। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন মিলিয়ে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১,৩৮৮ জন — য,其中 ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ৪৬৮ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ৭৭৭ জন। ঢাকা বিভাগের (সিটি করপোরেশনের বাইরে) মোট ভর্তি রোগী ৬৯৪ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় রোগী ভর্তি হওয়া এলাকার হিসাব অনুযায়ী ঢাকার উত্তর সিটি করপোরেশনেই সর্বোচ্চ ভর্তি (৩১ জন), বরিশাল বিভাগেও ৩১ জন এবং ঢাকা বিভাগের বাইরে ২৮ জন ভর্তি হয়েছে; ঢাকা দক্ষিণে ভর্তি হয়েছে ২৬ জন।
চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া ১৩ জনের মধ্যে আটজন পুরুষ ও পাঁচজন নারী। মৃত্যু সবচেয়ে বেশি ঘটেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং বরিশাল বিভাগে — প্রতিটি এলাকায় তিনজন করে মারা গেছেন। এছাড়া চট্টগ্রাম ও খুলনায় দুইজন করে এবং ঢাকা (সিটি করপোরেশনের বাইরে), ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও ময়মনসিংহে একজন করে মৃত্যু হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ ইকবাল বলেন, বর্ষা মৌসুমে মশার প্রজনন বেড়ে যাওয়ায় ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়ে। ‘এ বছর বৃষ্টি বেশি হওয়ায় ঝুঁকিও সাধারণত বেড়ে যায়। ডেঙ্গু মোকাবিলায় ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র—সব স্তরেই সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। যদি সমন্বয় না থাকে তবে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা আরও বাড়বে,’ তিনি সতর্ক করেছেন।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নবজাতক বিভাগের অধ্যাপক সঞ্জয় কুমার দে জানিয়েছেন, ‘রোগের প্রকৃতি বদলাচ্ছে; অনেক রোগীর লক্ষণ প্রথম দিন থেকেই স্পষ্ট হওয়ায় জ্বর পেলে দ্রুত ডেঙ্গু পরীক্ষা করানো প্রয়োজন। পুরনো কথা—কিছুদিন ঘরে রেখে দেখা যাবে—এখন আর প্রযোজ্য নয়। সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।’
বিশেষজ্ঞরা ডেঙ্গু প্রতিরোধে কয়েকটি কার্যকর পদক্ষেপ বলেছেন: বাড়িতে থাকা সব ধরনের খোলা পানির পাত্র পরিষ্কার করে পানি নষ্ট করা, ঘুমানোর সময় মশারি বা অন্য কোনো বাধা ব্যবহার, এবং সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় প্রশাসনের তদারকি করে লার্ভা ও মশা দমন কার্যক্রম চালানো। এছাড়া ডেঙ্গু হলে সরকার অনুমোদিত হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন—they’ve warned against চিকিৎসা নেবার ক্ষেত্রে নিবন্ধনহীন হাসপাতাল বা দালালদের সহায়তা গ্রহণ করা।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আতঙ্কিত হওয়ার দরকার নেই, তবে সচেতনতা ও দ্রুত ব্যবস্থা অবলম্বন করতে হবে। ব্যক্তি পর্যায়ে নিয়মিত পানি নিষ্কাশন, পরিচ্ছন্নতা ও সময়মতো স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করলেই ডেঙ্গুর প্রভাব অনেকটাই কমানো সম্ভব।








