ঢাকা | শনিবার | ৪ঠা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৯শে মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

আমদানিতে সুদের ঝুঁকি কমাতে ‘ফরোয়ার্ড রেট’ চুক্তির অনুমোদন

আন্তর্জাতিক বাজারে সুদের হারের আকস্মিক ওঠানামার ফলে দেশীয় আমদানিকারকদের রক্ষায় ‘ফরোয়ার্ড রেট’ চুক্তি চালুর অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) জারি করা প্রজ্ঞাপনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, ইউজেন্স আমদানি অর্থাৎ পণ্য গ্রহণের নির্দিষ্ট সময় পর অর্থ পরিশোধের ধরনের আমদানিতে এখন থেকে আমদানিকারকরা আগাম করে সুদের হার স্থির করে নিতে পারবেন।

বৈশ্বিকভাবে মার্কিন ডলারের ভিত্তিক সুদের হার, বিশেষত এসওএফআর (SOFR)-এর ওঠানামা থেকে উদ্ভূত আর্থিক ঝুঁকি কমাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ফরোয়ার্ড রেট চুক্তি মূলত একটি হেজিং টুল—এর মাধ্যমে আমদানিকারক ও ব্যাংক নির্দিষ্ট ভবিষ্যৎ সময়ের জন্য সুদের হার আগে থেকেই নির্ধারণ করতে পারবে, ফলে অনিশ্চয়তার মধ্যে অনেকটা নিশ্চয়তা আসে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্পষ্ট করেছে যে এই ব্যবস্থাটি শুধুমাত্র প্রকৃত আমদানি লেনদেনের ঝুঁকি প্রশমনের উদ্দেশ্যে ব্যবহারযোগ্য; স Speকভাবে কোনো ধরনের জুয়ার বা স্রেফ মুনাফা অর্জনের জন্য ব্যবহার করা যাবে না। ব্যাংকগুলোর জন্য চুক্তি পরিচালনায় মার্জিনের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ বেসিস পয়েন্ট এবং কোনো ব্যাংক তাদের গত ১২ মাসের গড় মাসিক বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহের ২৫ শতাংশের বেশি এই চুক্তির আওতায় আনতে পারবে না।

নিয়ন্ত্রক আরও নির্দেশ দিয়েছে যে, ব্যাংকগুলোকে একই দিনই সমান্তরাল লেনদেনের মাধ্যমে নিজেদের বাজারঝুঁকি সমন্বয় করে সম্পূর্ণভাবে হেজ করতে হবে, যাতে তারা কোনো সিস্টেম্যাটিক ঝুঁকি বহন না করে। আন্তর্জাতিক মানসম্মত চুক্তিকাঠামো ব্যবহার এবং শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতেও জোর দেওয়া হয়েছে। চুক্তি আগাম সমাপ্ত হলে তার নিষ্পত্তি প্রচলিত বাজারদরে করতে হবে এবং সমস্ত প্রয়োজনীয় দলিল সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা এই সিদ্ধান্তকে সময়োপযোগী ও ইতিবাচক বলছেন। তাঁদের মতে, বৈশ্বিক অস্থিরতার পরিপ্রেক্ষিতে যখন এসওএফআর ঘনঘন পরিবর্তিত হচ্ছে, তখন আমদানিকারকদের জন্য সুদের হার আগাম নির্ধারণে সক্ষম হওয়া দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও খরচ নিয়ন্ত্রণে বড় সুবিধা দেবে। একই সঙ্গে এটি দেশীয় আর্থিক ডেরিভেটিভস বাজারের উদ্ভব ও বিকাশে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

এই নতুন ব্যবস্থার ফলে আমদানি বাণিজ্যে আর্থিক স্থিতিশীলতা বাড়বে এবং ব্যবসায়ীরা ঝুঁকি কমিয়ে আরো আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে চুক্তি করতে পারবে—যা শেষ পর্যন্ত দেশের বাণিজ্যিক পরিবেশের জন্য ইতিবাচক প্রত্যাশা জাগায়।