ঢাকা | বুধবার | ১৫ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩১শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১লা সফর, ১৪৪৮ হিজরি

প্রধানমন্ত্রী ঘোষনা: স্টার্টআপে ৫ লাখ থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন

মেধাবী উদ্যোক্তাদের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দেওয়ার এক বড় ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব হাসান আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত ‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ শীর্ষক বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি জানালেন যে আইসিটি বিভাগের মাধ্যমে স্টার্টআপ উদ্যোক্তারা ৫ লাখ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পাবেন। এই উদ্দেশ্যে ৫০০ কোটি টাকার একটি বিশেষ বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বলা হয়, নতুন এই উদ্যোগে কেন্দ্রীয়ভাবে একটি ডিজিটাল সমন্বয়ক প্ল্যাটফর্ম চালু করা হয়েছে—জাতীয় স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা প্ল্যাটফর্ম—যা উদ্যোক্তাদের জন্য একক কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। এই প্ল্যাটফর্ম থেকে প্রশিক্ষণ, মেন্টরিং, সরকারি সহায়তা সম্পর্কিত তথ্য এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাওয়া যাবে। ব্যাংক ঋণগ্রহনে জামানত ও জটিল কাগজপত্রের সমস্যা দূর করার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে যাতে সম্ভাবনাময় প্রকল্প সহজে তহবিল পায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইসিটি মন্ত্রণালয় ৫০০ কোটি টাকার বাজেট রেখেছে এবং তারা চেষ্টা করবে একজন স্টার্টআপ উদ্যোক্তাকে ৫ লাখ থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত সহায়তা দিতে। তিনি জানালেন যে তহবিল বিতরণের জন্য একটি নিরপেক্ষ কমিটি গঠন করা হয়েছে, যেখানে মন্ত্রী বা উপদেষ্টা থাকবেন না; এই কমিটি প্রকল্পের গুণমান বিচার করে তহবিল অনুমোদন করবে। প্রশ্নোত্তরে তিনি স্পষ্ট করেন যে জামানত ছাড়াই প্রকল্পের যোগ্যতা বিচার করেই তহবিল দেয়া হবে।

সরকার এই অর্থকে জনগণের সম্পদ হিসেবে দেখেই পরিচালনা করবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, যেখানে সম্ভাবনা থাকবে সেখানে একজন উদ্যোক্তাকে দ্বিতীয়বারও সহায়তা দেয়া হতে পারে, কারণ অনেক উদ্যোগ শুরুতেই সফল হয় না; সম্ভাবনা থাকলে পুনরায় সুযোগ দেয়া হবে।

নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬-এর প্রেক্ষিতে গড়া এই ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ ফান্ড দেশের প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আইসিটি বিভাগ আশা করছে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এমপি এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। এছাড়া আইসিটি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খানসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ বক্তব্য রাখেন।

এই উদ্যোগের ফলে দেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে একটি কার্যকর, স্বচ্ছ ও সমন্বিত পরিবেশ গড়ে উঠবে—যেখানে উদ্যোক্তারা আইডিয়া থেকে বাণিজ্যিক সফলতা পর্যন্ত সুষম সহায়তা পাবে।