ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ১৬ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২রা সফর, ১৪৪৮ হিজরি

পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে সংঘর্ষে নিরাপত্তা কর্মীসহ ৯ জন নিহত

চলতি মাসের শেষভাগে অনুষ্ঠিতব্য আঞ্চলিক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে উত্তেজনা তীব্র হয়ে উঠেছে। সেখানে একটি নিষিদ্ধ ঘোষিত গোষ্ঠীর সমর্থকদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে নিরাপত্তা কর্মীসহ অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স মঙ্গলবার জানিয়েছে।

পুঞ্চ জেলার বিভাগীয় কমিশনার ওয়াহিদ খান ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান, আন্দোলনকারীরা ওই এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর একটি বিশেষ কনভয় আটকে দিয়ে কর্তব্যরত কর্মীদের ওপর আকস্মিকভাবে হামলা করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা এবং আত্মরক্ষার্থে পুলিশ ও দায়িত্বরত নিরাপত্তা কর্মীরা পাল্টা ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হন।

কোমিশনারের কথায়, তারারখাল এলাকায় সংঘর্ষে ছয় জন বিক্ষোভকারী এবং একজন পুলিশ নিহত হয়। এ ছাড়া রাওলাকোটে পৃথক সংঘাতে আরও একজন আন্দোলনকারী ও একজন নিরাপত্তা কর্মী মারা গেছেন। স্থানীয় সূত্রে বলা হচ্ছে, জুন মাস থেকে শুরু হওয়া এই রাজনৈতিক অস্থিরতায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

এই উত্তেজনার মূল কারণ হিসেবে স্থানীয়রা উপজাতি-ভিত্তিক বিধানসভার আসন বণ্টন ও বিদেশে বসবাসরত শরণার্থীদের জন্য নিষিতকৃত ১২টি আসন সংরক্ষণের সরকারি সিদ্ধান্তকে চিহ্নিত করছেন। স্থানীয় নাগরিক সমাজের দাবী, এভাবে আসন সংরক্ষণ করলে স্থানীয় জনগণের প্রতিনিধিত্ব কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।

এই অবস্থার মধ্যে, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে নিষিদ্ধ ‘যৌথ অ্যাকশন কমিটি’ (জেইএএসি) বুধবার রাওলাকোটে বিশাল বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেয়। প্রশাসন ওই কর্মসূচি ঠেকাতে জোরদার পদক্ষেপ নিয়েছে। বিভাগীয় কমিশনার ওয়াহিদ খান সতর্ক করে বলেছেন, আন্দোলনকারীদের শহরের অভ্যন্তরে ঢুকতে দেওয়া হবে না এবং যেকোনো মূল্যে বিশৃঙ্খলা রোধে নিরাপত্তা বাহিনী সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত।

বর্তমানে ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমেই নাজুক হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। নির্বাচন কাছাকাছি আসার সঙ্গে সঙ্গে যে উত্তাপ বাড়ছে, তাতে পরিস্থিতি আরও বৃদ্ধি পেলে নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।