দেশের ত্রাস সৃষ্টি করা বন্যার কারণে গণপ্রতীক্ষিত গুণী কণ্ঠী রুনা লায়লার সম্মাননা ও একক সংগীতানুষ্ঠান আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ও শিল্পী নিজে অনুষ্ঠানটি স্থগিত থাকার তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন।
মূলত ১৮ জুলাই বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে আয়োজনটি হওয়ার কথা ছিল। তবে সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে অনুষ্ঠান বাতিল না করে সাময়িকভাবে পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একাডেমির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে নতুন তারিখ ঘোষণা করা হবে।
শিল্পকলা একাডেমির জনসংযোগ বিভাগ বলেছে, বন্যা কুফল সরবরাহ, দর্শক সুবিধা ও সড়ক যোগাযোগের সমস্যা সমাধান হলে ছাড়া খোলাফ করে আগামী ২৫ জুলাইয়ের দিকে এই অনুষ্ঠান আয়োজনের চেষ্টা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রাথমিকভাবে প্রস্তুতি চালানো হয়েছে, কিন্তু সবকিছু পরিস্থিতির উন্নতির ওপর নির্ভর করবে।
রুনা লায়লা নিজেও বাতিল ঘোষণা করে বলেছেন, চারপাশের অবস্থাকে বিবেচনায় রেখে এবং দর্শকের স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তা বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, একাডেমি কর্তৃপক্ষ সব দিক পর্যালোচনা করে শিগগিরই নতুন তারিখ জানাবে।
একাডেমি চাইছে সম্মাননা ও কনসার্টটি রুনা লায়লার বিদেশ সফরের আগেই আয়োজন করতে। তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের শেষ দিকে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় কনসার্টে অংশ নেবেন—আগামী ১ ও ৮ আগস্ট যথাক্রমে সিডনি ও মেলবোর্নে দুইটি কনসার্টে তিনি অংশগ্রহণ করবেন এবং ২৯ জুলাই দেশের উদ্দেশ্যে রওনা দেবার কথা রয়েছে। তাই একাডেমি চেষ্টা করছে, তাঁর বিদেশ যাত্রার আগেই অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন করা।
অনুষ্ঠানে রুনা লায়লা তাঁর বহুবিধ জনপ্রিয় গান পরিবেশন করবেন এবং দর্শকদের সঙ্গে নানা স্মৃতি শেয়ার করবেন—শিল্পাঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত থেকে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা ও মুগ্ধতা ব্যক্ত করবেন। উল্লেখ্য, প্রায় ষাট বছরের বেশি সময়ের গৌরবোজ্জ্বল সঙ্গীতজীবনে শিল্পকলায় একক কনসার্টে অংশ নেওয়া এই কণ্ঠশিল্পীর জন্য এটি বিশেষতম এক মুহূর্ত বলে খবরটির সূত্রের বক্তব্য।
রুনা লায়লা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ‘‘দীর্ঘ কর্মজীবনের গান ও স্মৃতিগুলো নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য এই ধরণের আয়োজন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমি বিশ্বাস করি শ্রোতাদের সঙ্গে আমাদের একটি সুন্দর ও স্মরণীয় সন্ধ্যা কাটবে।’’
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে গত বছর থেকে দেশের গুণী শিল্পীদের সম্মাননা ও একক পরিবেশনার এই ধারাবাহিক কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরেই প্রখ্যাত শিল্পী সাবিনা ইয়াসমিনকে সম্মাননা দেওয়া হয়েছিল এবং সাম্প্রতিক সময়ে জুনে বরেণ্য শিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদীকে একই মঞ্চে সম্মাননা প্রদান করা হয়েছিল। একই ধারাবাহিকতায় রুনা লায়লার সম্মাননা অনুষ্ঠানও বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দ্রুত পুনরায় নির্ধারণ করা হবে বলে সংগঠকরা জানান।








