ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ১৬ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২রা সফর, ১৪৪৮ হিজরি

জি এম কাদের বললেন: দেশের পরিস্থিতি ভয়াবহ

সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী পালন উপলক্ষে রংপুরের পল্লী নিবাসে মঙ্গলবার আয়োজিত শোক সভায় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জি এম) কাদের দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, বর্তমান চিত্র দেখে মনে হয় দেশ এখনও বৈষম্য মুক্ত হয়নি এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ।

জি এম কাদের সভায় উল্লেখ করেন যে, চব্বিশের জুলাই আন্দোলনকে এখনও পূর্ণাঙ্গ গণঅভ্যুত্থান বলা যায় না—জনতার আকাঙ্ক্ষা বাস্তবে পরিপূর্ণভাবে تحقق পায়নি। তিনি বলেন, ‘‘জুলাই গণ-আন্দোলন এখনো অসম্পূর্ণ রয়েছে,’’ এবং যদি পরিবর্তন না আসে তাহলে ভবিষ্যতে নতুনভাবে জনগণ রাস্তায় নামার সম্ভাবনা রয়েছে।

বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে কটাক্ষ করে জাপা চেয়ারম্যান অভিযোগ করেন যে, ‘‘অন্তর্বর্তী সরকার জামায়াত-বিএনপির সঙ্গে মিলেমিশে একতরফা নির্বাচন উপহার দিয়েছে।’’ তিনি আরও যোগ করেন যে, ঐ নির্বাচন কোনোভাবেই অবাধ বা নিরপেক্ষ হয়নি এবং বিরোধী দলের মতামতপ্রকাশকারীদের ওপর মব বা গণপিটুনির মতো সংস্কৃতির মাধ্যমে অত্যাচার চালানো হচ্ছে।

জাতীয় পার্টিকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার জন্য বিভিন্ন ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে বলে তিনি দাবিও করেন। এসব প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে দলকে সমগ্র দেশে সুসংগঠিত করতে নেতা-কর্মীদের প্রতি জি এম কাদের চাপ দেন এবং সক্রিয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন।

দেশের উত্তরাঞ্চলের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে জাতীয় পার্টির মাধ্যমে উত্তরবঙ্গের মানুষের এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে—এটাই তাদের লক্ষ্য ও অঙ্গীকার।

শোক সভায় এরশাদের স্মৃতিচারণ করেন দলের মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাতোয়ারী, কো-চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা ও কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের অন্যান্য নেতা ও কর্মীরা। তারা প্রয়াত নেতার রাজনৈতিক কর্মযজ্ঞ এবং ব্যক্তিগত গুণাবলি নিয়ে কথা বলেন ও শ্রদ্ধা জানান।