প্রধানমন্ত্রী ও তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় নতুন করে মোট আটটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই সভা বুধবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে মোট ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার এ প্রকল্পগুলো অনুমোদিত হয়। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ১০ হাজার ৪৯৪ কোটি ২১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, আর বাকি ৩ হাজার ৫৫০ কোটি ৪৪ লাখ টাকা প্রকল্প ঋণ হিসেবে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
একনেকের চেয়ারপারসন হিসেবে সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে তিনটি সম্পূর্ণ নতুন এবং পাঁচটি সংশোধন করা প্রকল্প রয়েছে। সভায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এবং পানি সম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি উপস্থিত ছিলেন।
উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর মধ্যে স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনে তিনটির বৃহৎ উদ্যোগ রয়েছে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‘সার্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন-২ (জিএসআইডিপি-২) (প্রথম সংশোধন)’, ‘বৃহত্তর দিনাজপুর (দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়) জেলা সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্প’ এবং ‘পল্লী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও কর্মসংস্থান প্রকল্প’।
অন্যদিকে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালগুলোতে বিদ্যমান কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ এবং জেলা সদর হাসপাতালে ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের দ্বিতীয় সংশোধিত প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সিলেট বিভাগের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন ছাড়াও বেগমগঞ্জ ও সুনেত্র অঞ্চলে নতুন কূপ খননের পরিকল্পনাও অনুমোদিত হয়েছে। এ ছাড়া, যোগাযোগের উন্নয়নে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের দ্বিতীয় সংশোধনী এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ ও সংস্কার প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়।
এছাড়া, পরিকল্পনা মন্ত্রী পূর্বে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার নিচে ব্যয়ের আরও ১১টি প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কার্যালয়, বরিশাল টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট, শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালে মোবাইল নেটওয়ার্ক স্থাপন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মহাসড়ক উন্নয়ন, বিদ্যুৎ গ্রিড শক্তিশালীকরণ এবং গোপালগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, বরিশালসহ ছয় জেলায় বিটাকের কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা।









