আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য আইন সংশোধনের চূড়ান্ত সুপারিশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই সংশোধনীর মাধ্যমে তাদের মধ্যে বর্ষব্যাপী নিয়মিত কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা নির্বাচনে প্রার্থী হতে অযোগ্য ঘোষণা করা হবে। একইসাথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি দ্বৈত নাগরিকদের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণে অযোগ্য করার সুপারিশও করা হয়েছে।
এছাড়াও, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নবায়নের সময়সীমা ১৫ বছর পর পুনঃনবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশোধিত ফর্মে আবেদনকারীদের ফি জমা দিয়ে পরিবারের সদস্যদের তথ্য সরবরাহ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে ভোটারদের ফ্যামিলি ট্রি বা বংশগত ডেটা তৈরির কাজ সহজ হয়। আর তার পাশাপাশি, সংস্থাটি এখন ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য এনআইডি প্রদান করার পরিকল্পনা করছে, তবে বয়সের সর্বনিম্ন সীমা ঠিক কবে নির্ধারণ করা হবে তা পরে জানানো হবে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে অনুষ্ঠিত ১২তম সভায় এসব সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ.এম.এম. নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে সকাল ১১টার দিকে শুরু হওয়া এই সভা চলে দুপুর ২টা পর্যন্ত, এরপর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শেষ হয়।
সভায় ২০০৯ সালে করা স্থানীয় সরকারের পাঁচটি আইনের—সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ—তথ্য ও পর্যালোচনা করা হয়। আখতার আহমেদ জানান, এসব আইনের মধ্যে যেসব অংশ সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে তা নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে, সব আইনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনী যুক্ত করার সুপারিশ করা হয়। তিনি বলেন, আমরা মনে করি এটা আইনসম্মত ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ।
অন্যদিকে, বিদ্যমান আইনে এমপিওভুক্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা জাতীয় নির্বাচন ও স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেন। তবে, এবার দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই আলোচনায় আসে যে, স্থানীয় নির্বাচনে এ সুযোগ বাতিল করা উচিত। এরই প্রেক্ষিতে, ইসি মনে করে যে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য অযোগ্য ঘোষণা করা উচিত।
আখতার আহমেদ আরও বলেন, ঋণ খেলাপি পরিস্থিতি নিয়েও নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে যদি কেউ ঋণ খেলাপি হয়, যেমন—ব্যক্তিগত বন্ধকদাতা বা জামিনদার, অথবা বিদ্যুৎ বিল, ভূমি কর, ওয়াসা বা অন্যান্য সেবা সংস্থার বিল যদি খেলাপি থাকে, তাহলে সেই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য ঘোষণা করা হবে।
এছাড়াও, ইসি চার্জশিটভুক্ত অপরাধী ও দ্বৈত নাগরিকদের নির্বাচনে প্রার্থী হতে অযোগ্য ঘোষণা করার প্রস্তাব করবে। সচিব বলেন, সংবিধানে এ বিষয়গুলো ব্যপ্তি পায় না, ফলে নির্বাচন কমিশন মনে করে, এই ধরনের প্রার্থীরা নির্বাচন করতে পারবেন না। সাথে আচরণবিধি সংশোধনের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী খসড়া আইনে পরবর্তীতে সংশোধনী আনা হবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন বা শিডিউল নিয়ে প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে সময় লাগবে বলে জানান ইসি সচিব। তিনি আসন্ন ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিষয়ও তুলে ধরেন, যেখানে ভোটাররা অনলাইনে তাদের স্থানান্তর করতে পারবেন এবং এর জন্য নির্ধারিত ফি দিতে হবে।
নবায়ন এবং সংশোধনের বিষয়ে আলোচনা করে, ইসি বলেছে ১৫ বছর পর এনআইডি নবায়ন, ফরমে পরিবারের তথ্য, এবং জন্মসনদ বা অন্যান্য ডকুমেন্টের ভিত্তিতে জন্মতারিখ সংশোধনের বিষয়গুলোও বিবেচনা করা হচ্ছে। এছাড়াও প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করার জন্য বায়োমেট্রিক ডেটা সরাসরি তদন্ত শেষে অনুমোদনপ্রাপ্ত হবে।









