ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ২৩শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৯ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

জামায়াত এমপি গাজী নজরুলের অন্তরঙ্গ ভিডিও ভাইরাল: তোলপাড় এবং প্রশ্নবাণ

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামের এক অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। ভিডিওটি রাত করে ২০ জুলাই থেকে অনলাইনে ছড়ানো শুরু হলে তা দ্রুত ভাইরাল হয় এবং রাজনৈতিক-বৈবাহিক পরdebate সৃষ্টি করে।

ভিডিওতে কক্ষে এক তরুণীর সঙ্গে এমপি গাজী নজরুলকে ঘনিষ্ঠভাবে দেখা যায়। ঘটনার পর সোমবার রাত থেকে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন আবেদন ও প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে নিজ ফেসবুক পেজে এক পোস্টে গাজী নজরুল ঘটনাটি ব্যাখ্যা করেন। পোস্টে তিনি বলেন, ভিডিওতে থাকা নারী তার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগম।

নজরুল আরও দাবি করেন, চলতি বছর ১৭ জুন পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে এবং এ বিষয়ে তার প্রথম স্ত্রীরও সম্মতি আছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতা মাসুম/মাছুম বিল্লাহ ও তার মামা ওবায়দুল্লাহ পূর্বশক্রতা ও পারিবারিক বিরোধের জেরে এই ষড়যন্ত্রের শিকার করেছেন।’ পাশাপাশি যারা এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বানও জানান এমপি।

সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আজিজুর রহমান জানান, ভিডিওতে যে নারী দেখা গেছে তিনি এমপির দ্বিতীয় স্ত্রীই—এ বিষয়ে তারা প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হয়েছেন। তিনি বলেন, পারিবারিকভাবে তাদের আগে থেকেই বিয়ে হয়েছে; তবে বয়সের কারণে বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছিল। বিয়ের পর থেকে দম্পতি পারিবারিকভাবে জীবনযাপন করছেন।

আজিজুর রহমান আরও জানান, ওই জায়গা থেকে সিসিটিভি ফুটেজ কীভাবে বাইরে এসে ভিডিওর রূপ নিল তা কেউ কেউ জানতে চাচ্ছেন; এই ব্যাপারে তারা খোঁজখবর নিচ্ছেন।

এক গুরুত্বপূর্ন বিষয় হলো মরিয়মের বিভিন্ন নথিতে তার বৈবাহিক অবস্থার বিবরণ অসমঞ্জস্যপূর্ণ দেখা গেছে। প্রকাশিত বায়োডাটায় কয়েকদিন পরও তাঁর বৈবাহিক অবস্থা ‘অবিবাহিত’ হিসেবে লিপিবদ্ধ ছিল। বায়োডাটায় ২২ জুনের একটি দস্তখতে গাজী নজরুল ইসলামের স্বাক্ষর এবং তার ওপর সবুজ রঙে ‘জোর সুপারিশ করছি’ বলে লিখে রাখা আছে। এমপি দাবি করছেন ১৭ জুন তাদের পারিবারিকভাবে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে; তবু বায়োডাটায় পাঁচ দিন পরও ‘অবিবাহিত’ লেখা থাকায় এ বিষয়টি নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে।

জামায়াত কেন্দ্র থেকেও বিষয়ের উপর নজর রাখার নির্দেশনা এসেছে। দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো খবরে তারা খেয়াল রাখছেন। ইতোমধ্যেই এমপি, তাঁর প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রী এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতার বিবৃতি মিডিয়াতে প্রকাশিত হয়েছে। দলের পক্ষ থেকে আরো তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে সংগঠনিক নিয়ম মেনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এক কথায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ওই ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিওটি নিয়ে এখনো নানা প্রশ্ন, দাবি ও প্রতিক্রিয়া চলছে। ঘটনার সত্যতা, ভিডিওটি কোথা থেকে বাইরে এসেছে এবং বিয়ের সময়সীমা সংক্রান্ত অসঙ্গতি—এসব বিষয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধান এখনও জরুরি বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।