রাজধানীর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে মধ্যবিত্তের জন্য স্বস্তির কোনও দেখা নেই। গত কয়েকদিন ধরে চলা বৃষ্টিপাতের কারণে বাজারে সবজির সরবরাহ কমে যাওয়ায় দামসমূহ ঊর্ধ্বগামী প্রবণতা নিয়েছে। প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতারা কষ্টে পড়েছেন। একই সাথে ডিম এবং মুরগির দামও স্থিতিশীল না থেকে বেড়েছে। ব্রয়লার মুরগির দাম বেশিভাবে না বাড়লেও সোনালি জাতের মুরগির দাম প্রতি কেজিতে প্রায় ২০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। ইলিশের সরবরাহ বাড়লেও দাম কমেনি, যা মধ্যবিত্তের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে রয়েছে।
সবজি বিক্রেতারা জানান, আলু এবং পেঁপে ছাড়া বাকি সব সবজির দাম ঘণ্টায় ৬০ টাকারও বেশি। টানা বৃষ্টির ফলে সবজির দাম আরও বাড়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। বাজার পরিদর্শনে জানা গেছে, ব্রয়লার মুরগির দাম প্রায় স্থিতিশীল থাকলেও সোনালি জাতের মুরগির প্রতি কেজি দাম এখন ৩২০ টাকা, যা কয়েকদিন আগেও ছিল ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা।
গরুর মাংসের দাম কেজিপ্রতি ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা, গরুর কলিজা ৮০০ টাকা, মাথার মাংস ৪৫০ টাকা, বটের দাম ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১,২০০ টাকা প্রতি কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
ইলিশের বাজারের চিত্রও উদ্বেগজনক। ১ কেজির ইলিশের দাম ২,২০০ থেকে ২,৪০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে, ৭০০ গ্রামের ইলিশ ১,৮০০ টাকা, ৫০০ গ্রামের ১,২০০ টাকা, ৩০০ গ্রামের ১,০০০ টাকা এবং ১৫০ থেকে ২০০ গ্রামের ইলিশ ৬০০ থেকে ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
অন্য মাছের দিকেও দাম বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বৃদ্ধি পেয়েছে। এক কেজি শিং মাছ ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, দেশি শিং ৮০০ থেকে ১,০০০ টাকা, রুই মাছ ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা, দেশি মাগুর ৮০০ থেকে ১,০০০ টাকা, মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা এবং চিংড়ি ৮০০ থেকে ১,২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
ডিমের দামেরও ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। যেখানেই আগে প্রতিডজন ডিমের দাম ছিল ১২০ থেকে ১২৫ টাকা, এখন তা ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকায় পৌঁছেছে।
সবজির মধ্যে বেগুন, ঝিঙা, কচুর লতি, করলার দাম এখন ৮০ থেকে ১০০ টাকা প্রতি কেজি। বরবটি, পটল, ঢেঁড়সের দামও বেড়ে গেছে। টমেটো প্রতি কেজিতে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য সবজির মধ্যে লাউ ৫০ থেকে ৬০ টাকা, ইন্ডিয়ান গাজর ১৪০ টাকা, দেশি শসা ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং হাইব্রিড শসা ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
অনেক সবজির দাম বেড়ে বৃদ্ধির কারণ হিসেবে বিক্রেতারা টানা বৃষ্টিপাত ও সরবরাহের সংকটকে দায়ী করছেন। চালের বাজারেও মূল্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে, মোটা চাল ৬০ টাকায়, মাঝারি মানের চাল ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় এবং অন্যান্য চাল ৭৫ থেকে ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
পরিশেষে, বৃষ্টির কারণে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের কিছুটা কষ্ট হচ্ছে এবং তাদের ক্রয়ক্ষমতার উপর প্রভাব পড়েছে। বাজার পরিস্থিতি সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত দাম শিথিল হওয়ার আশায় ক্রেতারা দিনগণনা করছেন।








