ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধান শেখ হাসিনাকে দেশের বাইরে থাকার সময় দেশে ফিরিয়ে আনতে নতুন করে ষড়যন্ত্র গড়ে উঠেছে। সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ তাদের নির্বাচিত ক্যাডারদের প্রশিক্ষণ দিয়ে নাশকতার মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছে।
প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত গেরিলা বাহিনীর মূল লক্ষ্য হলো দেশের বিভিন্ন স্থানে বিশাল ধরনের অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করা এবং উপর্যুক্ত সংকেত পেলেই ঢাকাসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দখল করা। এর অংশ হিসেবে হাজার হাজার নেতাকর্মী দেশে-বিদেশে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছে, যাদের একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে প্রাথমিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছে।
রাজধানী ঢাকাসহ মিরপুর, ভাটারা, কাটাবন ও পূর্বাচল এলাকায় এসব প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রশিক্ষণের দায়িত্বে ছিলেন সেনাবাহিনীর মেজর পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা সাদেকুল হক সাদেক, যিনি বর্তমানে সেনাবাহিনীর হেফাজতে রয়েছেন ও তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। যদি তদন্তে তার অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে সেনাবাহিনী তাদের নিয়মিত ব্যবস্থাগুলি গ্রহণ করবে বলে জানা গেছে।
বিশ্বাসযোগ্য সূত্র থেকে জানা গেছে, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারকে উৎখাতের নীলনকশা সাজিয়ে আগস্ট মাসে দেশে ব্যাপক নাশকতা চালানোর পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছিল। আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ প্রায় আড়াই হাজার ক্যাডারকে প্রশিক্ষণ দিয়েছ। ৮ জুলাই রাজধানীর ভাটারা থানা এলাকায় একটি কনভেনশন সেন্টারে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় ৪০০ ক্যাডার অংশগ্রহণ করে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে, যেখানে অংশগ্রহণকারীদের আগে থেকে নির্দিষ্ট টোকেন দিয়ে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।
ডিবি ও স্থানীয় পুলিশ জানায়, ওইদিন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ একটি বৈঠক আয়োজন করে এবং সেখানে সরকারবিরোধী স্লোগান ও ষড়যন্ত্রমূলক কর্মসূচি পরিকল্পনা করা হয়। এছাড়া পূর্বাচল, কাটাবন ও মিরপুরেও প্রশিক্ষণের তথ্য পাওয়া গেছে, যেখানে সশস্ত্র ও ভার্চুয়াল লড়াইয়ের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। রাজধানী ঢাকায় তিন থেকে চার লাখ নেতাকর্মীর সমাগম ঘটিয়ে বিমানবন্দর ও শাহবাগ দখল করার পরিকল্পনা ছিল তাদের।
বর্তমানে এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে বরগুনার যুবলীগ নেতা সোহেল রানা, গোপালগঞ্জের আওয়ামী লীগ নেত্রী শামীমা নাসরিন শম্পা ও মেহেরপুর যুবলীগ আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান রিটন রয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে মেজর সাদেক ও তার স্ত্রী সহকারী পুলিশ সুপার সুমাইয়া জাফরিনের নাম উল্লেখ এসেছে, যারা এই চক্রান্তের মূল সমন্বয়কারী।
গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, মেজর সাদেক বর্তমানে কক্সবাজারের রামু ক্যান্টনমেন্টে কর্মরত ছিলেন, কিন্তু অনুপস্থিত থাকার সময় শাজীব ওয়াজেদ জয় ও অন্যান্য নেতাকর্মীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতেন। আবার কলকাতা থেকে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের নেতৃত্বে এই ষড়যন্ত্র তত্ত্বাবধান করা হচ্ছিল। এছাড়াও ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ও পলাতক পুলিশের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাও এ সংঘাতের সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গেছে।
সরকারি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ঢাকায় প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া সকল ক্যাডারদের শনাক্ত করেছে এবং অর্থায়নের উৎস শনাক্ত করতে ব্যবসায়ীদের ওপর নজরদারি জোরদার করেছে। বর্তমানে এই ষড়যন্ত্রে কাদের জড়িত আছে তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।
সেনাবাহিনী গত বৃহস্পতিবার এক প্রেসব্রিফিংয়ে মেজর সাদেককে হেফাজতে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে এবং জানিয়েছে, তদন্তে তার দোষ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো যাচ্ছে না।
এ ঘটনার মাধ্যমে দেশের স্থিতিশীলতা বাধাগ্রস্ত করার ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে তৎপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং দেশব্যাপী অরাজকতা রুখতে সক্রিয় রয়েছে।








