বিনিয়োগের বিষয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সঠিক পথে এগোচ্ছে। বুধবার (২৩ জুলাই) গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দলের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের তিনি এ মন্তব্য করেন।
গতকাল রাতে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বিএনপি ও তিন other রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। সাংবাদিকরা এ সময় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনার বিষয় জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা হঠাৎ আমাদের ডেকে পাঠিয়েছিলেন, যা সাধারণত সরকারের সংকট মুহূর্তে ঘটে। আমরা সরকারের সঙ্গে মিলেমিশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে সবসময় সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত। তবে আমাদের মত বিনিময় আরও ঘনঘন হলে ভালো হতো।’
মাইলস্টোন স্কুলে ঘটে যাওয়া বিমান দুর্ঘটনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘সোমবারের ওই দুর্ঘটনায় অনেক কিশোর-কিশোরী প্রাণ হারিয়েছে, যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমি নিজেও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং শোক প্রকাশ করেছি। দুর্ঘটনার পর মাইলস্টোন স্কুলে দুই উপদেষ্টাকে অবরুদ্ধ করা হয়েছিল। এছাড়া পরীক্ষার জটিলতাকে কেন্দ্র করে সচিবালয়ে ছাত্রদের ঢোকার ঘটনা প্রশাসনিক ঝামেলার ইঙ্গিত দেয়।’’
ফখরুল আরো বলেন, ‘‘কয়েক দিন আগে গোপালগঞ্জে সৃষ্টি হওয়া বিতর্কিত পরিস্থিতি ফ্যাসিস্ট শক্তির উত্থানের লক্ষণ মনে হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার জন্য এ সংকট মোকাবিলায় কাজ করছেন এবং নির্বাচনের ত্বরান্বিত করার পরিকল্পনা করছেন। ফেব্রুয়ারি-মার্চের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আমরা আশা করছি।’’
সরকার নির্বাচন নিয়ে সঠিক পথে আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি সেসব দিক থেকে ইতিবাচক দেখছি।’ নাগরিকদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার জন্য এই সরকারের আন্তরিকতার কোনো অভাব তিনি দেখতে পান না।
দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী একই ব্যক্তি হলে তা নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন যে প্রস্তাব দিয়েছে, তাতে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের মতামত গুরুত্বপূর্ণ এবং সব দিক বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। গণতন্ত্রের অর্থও হচ্ছে নানা মত বিনিময়ের স্বাধীনতা।’
বিমান দুর্ঘটনায় কোনো ষড়যন্ত্র রয়েছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি এতে কোনও ষড়যন্ত্র দেখতে পাচ্ছি না। এটি একেবারেই দুর্ঘটনার ফল। তবে, আমি বিষয়টি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করার মতো বিশেষজ্ঞ নই।’
সরকারের অবহেলা ছিল কি-না জানতে চাইলে তিনি স্বীকার করেন, ‘সরকার পূর্ণ অভিজ্ঞতার অধিকারী নয়, তাই কিছু দুর্বলতা থাকতেই পারে, তবে এটি গাফিলতি নয়। দেশের পরিচালনায় তাদের অভিজ্ঞতা সীমিত এবং ইগো-র কারণে কিছু সিদ্ধান্তে সমস্যা হচ্ছে।’
সাম্প্রতিক সময়ের বিশৃঙ্খলার পেছনে ফ্যাসিস্ট শক্তির ইচ্ছাকৃত বাধা তৈরির চেষ্টা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। এই সব কারণের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যাওয়ার গুরুত্ব তিনি তুলে ধরেন।









