ঢাকা | মঙ্গলবার | ২৮শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৪ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

আইসিজে’র জলবায়ু সংক্রান্ত মতামত আন্তর্জাতিক নীতিতে নৈতিক সাহস যোগাবে: পরিবেশ উপদেষ্টা

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, “আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত রাষ্ট্রগুলোর বাধ্যবাধকতা নিয়ে যে উপদেশমূলক মতামত দিয়েছে, তা ম্যান্ডেট না হলেও বর্তমান বৈশ্বিক রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের বিরুদ্ধে জলবায়ু নীতি পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক সাহস যোগাবে। এই মতামত আন্তর্জাতিক নীতিনির্ধারণে প্রভাব ফেলে রাষ্ট্রগুলোকে নীতির পুনর্মূল্যায়নে বাধ্য করবে।”

আজ পরিবেশ অধিদপ্তরে অনুষ্ঠিত গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে উপদেষ্টা এসব কথা জানান। তিনি আরও বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তন এমন একটি মহানুদীণ সমস্যা, যেখানে শুধু সুশীল সমাজ নয়, তরুণ প্রজন্মকেও সম্পৃক্ত করতে হবে। বর্তমান প্রজন্ম হয়তো টিকে যাবে, কিন্তু ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। আমরা যদি এখনই সক্রিয় ব্যবস্থা না নিই, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের জবাবদিহির আওতায় নিয়ে আসবে।”

বক্তৃতায় তিনি নদী ভাঙন, অবকাঠামোগত দুর্বলতা, জলবায়ু অভিযোজন পরিকল্পনার গুরুত্ব এবং স্থানীয় সরকারের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, “নদী ভাঙনপ্রবণ এলাকায় পুনর্বাসন ছাড়া টেকসই সমাধান সম্ভব নয়। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ডের কার্যক্রম আরও সমন্বিত ও কার্যকর করতে হবে, যা সরকার ও এনজিওদের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে কাজ করবে।”

তাঁর বক্তব্যে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় ‘প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা’ এবং ‘নৈতিক বাধ্যবাধকতা’ বিষয়ক দৃষ্টিভঙ্গির গুরুত্ব উল্লেখ করে, উপদেষ্টা তরুণদের মাধ্যমে দেশের জন্য ১০-১২টি পরিবেশবান্ধব বার্তা সংকলনের আহ্বান জানান, যাতে শক্তিশালী জলবায়ু সচেতনতা সৃষ্টি করা যায়।

গোলটেবিল আলোচনার সভাপতি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইনজীবী ও জলবায়ু পরিবর্তন নেগোশিয়েটর অ্যাডভোকেট হাফিজ খান। এছাড়াও অধ্যাপক পায়াম আখভান, অধ্যাপক মেরি-ক্লেয়ার, এবং নিকোল অ্যান ভার্চুয়ালী বক্তব্য রাখেন। কাজে অংশ নেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (জলবায়ু পরিবর্তন) মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো: কামরুজ্জামান, ন্যাটকেমের নির্বাহী পরিচালক এস.এম. মুনজুরুল হান্নান খান, অ্যাকশনএইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির, পিকেএসএস পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিভাগের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. ফজলে রাব্বী সাদেক আহমেদ, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মো: জিয়াউল হক, ব্র্যাকের পরিচালক লিয়াকত আলী, সিপিআরডির প্রধান নির্বাহী মো: শামসুদ্দোহা, ফ্রেন্ডশিপের সিনিয়র পরিচালক কাজী আমদাদুল হক এবং ইয়ুথ নেট গ্লোবালের নির্বাহী সমন্বয়কারী সোহানুর রহমান।

গোলটেবিল আলোচনায় বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, তরুণ প্রতিনিধি, পরিবেশবাদী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।