ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৩ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

জুলাই গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে আনোয়ারার বখতিয়ার পাড়া চারপীর আউলিয়া মাদ্রাসার দ্বিতীয় স্থান অর্জন

ছোট্ট সিয়াম (১১) বাসার ছাদের ওপর হেলিকপ্টারের শব্দ শুনে জানালার কাছে গিয়ে বাবাকে ডাকছে। ‘বাবা, দেখো হেলিকপ্টার!’ হঠাৎই একটি বুলেট এসে লাগল রায়হানের বুকে। বাবার করাবলি চিৎকারে শহরটা উত্তাল হয়ে উঠল। শাহবাগ জমজমাট, শিক্ষার্থীদের স্লোগানের মিছিল মুখরিত করেছে রাজপথগুলো। উত্তেজনার মাঝে পানির বোতল নিয়ে এগিয়ে এলেন মুগ্ধ। ‘পানি লাগবে, পানি…’ বলে হোঁচট খেয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন সে। রংপুরে পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালাচ্ছে ছাত্রদের মিছিলে। কিন্তু আবু সাঈদ সাহসিকতার সঙ্গে মিছিলে গিয়ে নিজের বুকে বুলেট ঠেকিয়ে বাকি সবাইকে রক্ষা করেছেন। তাঁর এই বীরত্ব দেশের গণতন্ত্র বাঁচিয়েছে এবং ১৬ বছরের স্বৈরশাসককে পালাতে বাধ্য করেছে।

এই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তির উপলক্ষে চট্টগ্রামে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ২৪ জুলাই গ্রাফিতি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আনোয়ারা উপজেলার বখতিয়ার পাড়া চারপীর আউলিয়া ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা নিজেদের সৃজনশীলতায় চট্টগ্রাম অঞ্চলে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে ১৯৩ নম্বর পেয়ে। এতে প্রথম স্থান অধিকার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি মহিলা কলেজ ১৯৭ নম্বর দিয়ে, আর তৃতীয় স্থান পেয়েছে খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ ১৯০ নম্বর নিয়ে।

গতকাল বুধবার চট্টগ্রাম মহিলা সমিতি উচ্চ বিদ্যালয়ের দেয়ালে চট্টগ্রামের ১১ জেলায় ৩৩টি কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী দল প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। শিক্ষার্থীরা ‘জুলাই আন্দোলনের চেতনা’ ধারণ করে হৃদয়স্পর্শী গ্রাফিতি এবং চিত্রাঙ্কন উপস্থাপন করে।

প্রতিযোগিতার ফলাফল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ঘোষণা করা হয়। মাদ্রাসার পক্ষ থেকে অংশগ্রহণ করেন উম্মে হাবিবা মায়া, উম্মে জান্নাতুল মাওয়া সাইমা, নুসরাত শাহীন জেরিন, সুমাইয়া আক্তার মাহি এবং মেহেরন্নেসা। তারা সবাই তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অনুভূতি জানিয়েছেন। তাদের কথায়, ‘‘গ্রাফিতি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে জুলাই শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পেরে আমরা গর্বিত।’’

উম্মে হাবিবা মায়া বলেন, ‘‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা আগামী প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে এই প্রতিযোগিতাগুলো অসাধারণ ভূমিকা রাখছে। যারা গত বছর জীবন উৎসর্গ করেছে, তাদের স্মরণেই আমরা এই সৃজনশীল কাজ করেছি।’’

মাদ্রাসার অধ্যক্ষ কাজী আবদুল হান্নান জানান, ‘‘শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস উদ্দীপনা দেখিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য আমরা সব ধরনের সহযোগিতা করেছি।’’ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ফেরদৌস হোসেন বলেন, ‘‘বখতিয়ার পাড়া চারপীর আউলিয়া মাদ্রাসার এই অর্জন পুরো উপজেলার জন্য গর্বের বিষয়। এমন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মাঝে জুলাই চেতনা আরও জোরদার হবে।’’