ঢাকা | বুধবার | ২৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১২ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

তাই প্রথমবারেই অনূর্ধ্ব-১৮ এশিয়া কাপে ব্রোঞ্জজয়ী বাংলাদেশ নারী হকি দল

অনূর্ধ্ব-১৮ এশিয়া কাপ হকিতে প্রথমবারের মতো অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ নারী দল এবং একই সঙ্গে প্রথম অংশগ্রহণেই তারা ঝলমলে ব্রোঞ্জ পদক জিতে দেশের হকিতে একটি নতুন ইতিহাস গড়েছে। আজ চীনের দাজহুতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে কাজাখস্তানকে ৬-২ গোলে পরাস্ত করে বাংলাদেশের মেয়েরা তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করেছে। এই জয়ে নিজেদের অসাধারণ পারফরম্যান্সের মাধ্যমে আইরিন আক্তার হ্যাটট্রিকসহ ম্যাচসেরা নির্বাচিত হয়েছেন।

মেয়েদের তুলনায় ছেলেদের দলেরও পদক অর্জনের সম্ভাবনা ছিল, কিন্তু তৃতীয় স্থান নির্ণয় ম্যাচে মালয়েশিয়ার কাছে ৫-২ গোলে পরাজিত হয়েছে পুরুষ দল। এর আগে হংকংকে হারিয়ে শক্তিশালী শুরু করলেও সেমিফাইনালে জাপানের ঝুঁকিতে ৬-৪ গোলে হেরে স্বপ্নের পদক থেকে ছিটকে যায় তারা।

মেয়েদের জন্য প্রথম ম্যাচটি সহজ ছিল না; গ্রুপ পর্বে জাপানের বিপক্ষে ১১-০ গোলে হারের পর তারা মন জোরে ফিরে আসে। পরবর্তী দুই ম্যাচে উজবেকিস্তান ও হংকংকে যথাক্রমে ৩-০ গোলে হারিয়ে শেষ চারে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে।

ফাইনালে ওঠার পথে চীনের কাছে ৯-০ গোলে হারতে হয় এবং কাজাখস্তানের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করেও তৃতীয় স্থান অর্জনের লড়াইয়ে নামতে হয় বাংলাদেশকে।

এবার শুক্রবার (১১ জুলাই) কাজাখস্তানের বিপক্ষে ড্র হওয়া ম্যাচের প্রতিশোধ হিসেবে, আজ তারা দুর্দান্ত খেলায় ৬-২ গোলে জয়ী হয়। শুরুতেই ৯ মিনিটে পিছিয়ে পড়লেও ১২ মিনিটে আইরিন সমতা ফেরান এবং ১৮ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে আরও দুই গোল করে দলের জন্য গ্রহনের যোগান দেন।

৩৫ মিনিটে অধিনায়ক শারিকা রিমন বাংলাদেশের চতুর্থ গোলটি করেন। বাকি দুটি গোল কণা আক্তার ও রিয়াশা রিশির প্রত্যেকের গড়ে তোলে স্কোর ৬-১। ৫৯ মিনিটে কাজাখস্তান একটি গোল করে ব্যবধান কমালেও জয় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের। টুর্নামেন্টে মোট ২৪ গোল হজম করলেও, মাঠে শেষ পর্যন্ত ১৪ গোল করেছেন বাংলাদেশি মেয়েরা। আইরিন সর্বোচ্চ ৫ গোল করেন এবং কণা আক্তার করেন চারটি গোল।

অনূর্ধ্ব-১৮ এশিয়া কাপের নারী বিভাগে ফাইনালে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছে জাপান ও চীন। পুরুষ বিভাগের ফাইনালে মুখোমুখি হবে জাপান ও পাকিস্তান। এই সফলতা বাংলাদেশের হকি ক্ষেত্রে নতুন উৎসাহ ও সামনে আরও সাফল্যের পথ তৈরি করবে বলেই আশা।