মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান নিয়ে পুনরায় কঠোর সুর ভাইলেন এবং তেহরানকে এক বড় সতর্কবার্তা দিলেন। কাতারের আল জাজিরার প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের দাবি—শেষ পর্যন্ত ইরান আলোচনার টেবিলে বসতেই বাধ্য হবে; আর যদি না বসে, তাহলে তারা এমন একটি ভয়াবহ সমস্যার সম্মুখীন হবে যা তারা আগে কখনও দেখেনি।
জনপ্রিয় রেডিও শো ‘‘দ্য জন ফ্রেডরিকস শো’’-এ দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প নিজে এ আস্থা ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন ইরান আলোচনায় ফিরবে, আর না এলে তাদের মোকাবিলায় এমন প্রতিক্রিয়া হবে যা তুলনাহীন। এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে যখন মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র এবং যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের ওপর চাপে জোর দিচ্ছে।
ট্রাম্প কেবল হুমকি দেননি, সম্ভাব্য সমঝোতার ইঙ্গিতও দিয়েছেন। তিনি বলেন, যদি একটি ‘ন্যায্য চুক্তি’ হয় তাহলে ইরান হবে অর্থনৈতিক ও দেশতাত্ত্বিক পুনর্গঠনের সুযোগ পাবে—কিন্তু সেই চুক্তির মূল শর্ত হবে পারমাণবিক নিষ্ক্রীকরণ। ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেছেন যে যেকোনো আলোচনায়ই ইরানের জন্য পারমাণবিক অস্ত্র ধারনের কোনো সুযোগ থাকবে না।
তিনি যুক্তি দিয়েছেন যে বর্তমান কড়া নীতি না নিলে ওয়াশিংটনের কাছে বিকল্প কম ছিল এবং ইরানের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে এই পথে হাঁটা প্রয়োজনীয় ছিল। ট্রাম্পের ভাষায়, আগের নীতিগুলো কার্যকর না হওয়ায় তিনি এই কঠোর অবস্থান গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছেন।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলেন, ট্রাম্পের বক্তব্যে একদিকে চাপ প্রয়োগ করার স্পষ্ট কৌশল দেখাচ্ছে, অন্যদিকে আলোচনার দ্বারও আংশিকভাবে খোলা রেখে দেওয়ার ইঙ্গিত আছে। এখন দেখার বিষয়, তেহরান এই চূড়ান্ত আঘাতধমক ও ‘দেশ পুনর্গঠনের’ প্রস্তাবকে কিভাবে গ্রহণ করে।
বিশ্ব রাজনীতি পর্যবেক্ষকরা আরও মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতায় নতুন অনিশ্চয়তা যোগ করেছে। তেহরানের প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক অগ্রযাত্রা এখন আন্তর্জাতিক মঞ্চে সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ার বিষয় হয়ে উঠেছে।









