উন্নত জীবন আর পরিবারের ভবিষ্যত নির্মাণের আশায় ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করে চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে সাগরে প্রাণ হারিয়েছে বা নিখোঁজ হয়েছে ১,৩১৭ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী। এই তথ্য বুধবার (১০ জুন) জানিয়েছে আতলান্টিক ও পশ্চিম ভূমধ্যসাগরের বিপজ্জনক ট্রাকিং নজরদারি করা মানবাধিকার সংস্থা কামিনান্দো ফ্রোন্তেরাস; খবরটি শেয়ার করেছে রয়টার্স।
সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহত বা নিখোঁজদের মধ্যে ১৪২ জন নারী এবং ১২৯ জন শিশু রয়েছেন। এছাড়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে ২৭টি নৌকা সাগর পাড়ি দিয়ে গিয়ে আরোহীসহ নিখোঁজ হয়ে গেছে।
কামিনান্দো ফ্রোন্তেরাস জানান, ইউরোপের নিকটবর্তী কিছু অঞ্চল—বিশেষত মৌরিতানিয়ার মতো জায়গায় পারাপার বন্ধের চাপ বেড়ে যাওয়ায় অভিবাসনপ্রত্যাশীরা কোস্ট গার্ড বা নিরাপত্তা বাহিনীর নজরদারি এড়াতে আরও দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ আটলান্টিক পথ বেছে নিচ্ছেন। এই কারণেই ঝুঁকি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই মৃত্যুর ঘটনাও বেড়েছে।
প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে পোপের সফরের ঠিক আগে। চলতি সপ্তাহে স্পেন সফরকালে পোপ অভিবাসনপ্রত্যাশীদের প্রতি ইউরোপীয় দেশগুলোর আচরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং তাদের দুর্দশাকে আন্তর্জাতিক নৈতিকতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, ২০২৫ সালে স্পেনের উপকূলে পৌঁছানোর চেষ্টা চালিয়ে মোট ৩ হাজার ৯০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী প্রাণ হারিয়েছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন। ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ ও পশ্চিম আফ্রিকা উপকূলের মধ্যে সর্বনিম্ন দূরত্ব প্রায় ১০০ কিলোমিটার (৬২ মাইল)। এছাড়া অনান্য কিছু রুটে মরক্কো থেকে স্পেনের মধ্যকার সরাসরি পথে প্রায় ২০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে অভিবাসনপ্রত্যাশীরা পৌঁছানোর চেষ্টা করে থাকেন, কিন্তু নিরাপত্তা কড়াকড়ির কারণে অনেকেই দীর্ঘ ও বিপজ্জনক পথ বেছে নিচ্ছেন।
রয়টার্স প্রতিবেদনে কামিনান্দো ফ্রোন্তেরাসের তথ্য উদ্ধৃত করেছে এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই মানবিক সংকট সম্পর্কে সতর্ক করে দিচ্ছে।








