ঢাকা | বুধবার | ১৫ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩১শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১লা সফর, ১৪৪৮ হিজরি

এলডিসির টেকসই উত্তরণের লক্ষ্যে বৈশ্বিক সহায়তা আরও বাড়ানোর আহ্বান

স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) জন্য দ্রুত ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতকরার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও জোরালো সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মত ব্যক্ত করেছেন এলডিসি গ্রুপ। সোমবার (১৩ জুলাই) জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক) এর উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে এই আহ্বান জানানো হয়। এই প্রতিবেদনপূর্বক বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আয়কর ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

বক্তব্যের শুরুতেই ড. তিতুমীর দোহা কর্মসূচি ও ২০৩০ এজেন্ডার প্রতি আনুগত্য পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, এই দুটি বৈশ্বিক কাঠামোই এলডিসি দেশগুলোর উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা অর্জনের জন্য নির্দেশিকা হিসেবে কাজ করছে। তবে বর্তমানে এই লক্ষ্য অর্জনে গতি কিছুটা ধীর হয়ে পড়ছে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ড. তিতুমীর উল্লেখ করেন, এসডিজি বাস্তবায়নে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, আর দোহা কর্মসূচির মূল লক্ষ্য—২০৩১ সালের মধ্যে আরও বেশি এলডিসি দেশের টেকসই উন্নয়নে উত্তরণ—সেটি ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

বর্তমানে ১৪টি এলডিসি দেশ উন্নয়নের বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে, এ সংবাদ দিয়ে তিনি বলেন, এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখাটা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত সংকটের কারণে বাংলাদেশ ও নেপাল নিজেদের উত্তরণ সময়সীমা ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত সম্প্রসারণের জন্য আবেদন করছে। তিনি বলেন, “স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজি (এসটিএস) বাস্তবায়নের জন্য এটি একটি কৌশলগত পদক্ষেপ।”

বিশেষ অগ্রাধিকারমূলক পাঁচটি প্রস্তাব পেশ করে ড. তিতুমীর বলেন, এলডিসি দেশগুলোর সংকট উত্তরণে, দোহা কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি জরুরি। পাশাপাশি, সহজ শর্তে ঋণের পরিমাণ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, বৈশ্বিক অর্থায়ন ব্যবস্থায় ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে হবে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিপূরণে ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ’ তহবিল থেকে দ্রুত অর্থপ্রাপ্তি ও অভিযোজনের জন্য পর্যাপ্ত সহায়তা প্রদান করতে হবে।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রসঙ্গে তিনি নির্দেশ দেন, এলডিসি দেশগুলোর জন্য বাজারে প্রবেশাধিকার সহজ করতে হবে। প্রযুক্তিগত বৈষম্য দূর করতে প্রযুক্তি হস্তান্তর ও ডিজিটাল রূপান্তরে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে হবে। তিনি মনে করেন, কাতার দোহায় অনুষ্ঠেয় দোহা কর্মসূচির মধ্যমেয়াদি পর্যালোচনা এই অংশীদারিত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বড় সুযোগ।

বক্তব্যের চূড়ান্ত পর্যায়ে ড. তিতুমীর বলেন, এলডিসি দেশগুলোর বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে বিশ্ব সম্প্রদায় ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার গ্রহণযোগ্যতা পরীক্ষা হচ্ছে। দোহা কর্মসূচির এই পর্যালোচনা যাতে কার্যকর ও ফলপ্রসূ হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। এলডিসি গ্রুপ এই লক্ষ্যে সব অংশীদারের সাথে একযোগে কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।