ঢাকা | সোমবার | ১১ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৮শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৪শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

গর্ভের সন্তানের লিঙ্গ প্রকাশ সংবিধানবিরোধী: হাইকোর্ট

গর্ভে থাকা সন্তানের লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশকে সংবিধানবিরোধী ও নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক হিসেবে ঘোষণা করে এক ঐতিহাসিক রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। সোমবার বিচারপতি নাইমা হায়দার এবং বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রায়টির পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করেন।

আদালত রায়ে বলেছে, গর্ভের শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ ও তা প্রকাশ কেবল অনৈতিক চর্চাই নয়, বরং কন্যাশিশু হত্যা ও লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্যকে প্ররোচিত করে সমাজের ভারসাম্য নষ্ট করে। রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে এ ধরনের প্রথা “নারীর মর্যাদা, সমতা ও জীবনের অধিকারের বিরুদ্ধে যায় এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বাধ্যবাধকতারও চরম লঙ্ঘন।”

হাইকোর্ট স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে গর্ভস্থ শিশুর লিঙ্গ প্রকাশের এই প্রক্রিয়া বাংলাদেশের সংবিধানের বিধান — বিশেষত ১৮, ২৭, ২৮, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের — সঙ্গে সাংঘর্ষিক। মন্তব্যে আদালত এ বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে নজরদারি ও জবাবদিহিতার আওতায় না থাকার আপসোস প্রকাশ করেছেন এবং বলেছেন যে কেবল গাইডলাইন দিয়ে সমস্যা সমাধান হবে না; কার্যকর ও দায়বদ্ধ বিধান প্রয়োজন।

রায়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে আগামী ছয় মাসের মধ্যে একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরির। সেই ডাটাবেজে দেশের সকল নিবন্ধিত হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালিত সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার রিপোর্ট সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করতে হবে, যাতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়মিত তদারকি করতে পারে।

আদালত এই বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াটিকে ‘ধারাবাহিক তদারকি’ বা continuous mandamus হিসেবে ঘোষণা করেছেন, যার মাধ্যমে রায়ের কার্যকরী বাস্তবায়ন আদালত নিজ দফতরে থেকে পর্যবেক্ষণ করবেন। এই সিদ্ধান্তের লক্ষ্য হলো প্রয়োগ পর্যায়ে থাকা ফাঁকফোকর বন্ধ করে সুষ্টু ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

রিটটি ২০২০ সালে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান জনস্বার্থে দায়ের করেন। শুনানিতে ইশরাত নিজে ছিলেন এবং তাঁকে সহায়তা করেন তানজিলা রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাশগুপ্ত। দীর্ঘ আইনগত প্রক্রিয়ার পর হাইকোর্ট এই যুগান্তকারী রায় প্রদান করলেন।

এই রায়ের ফলে আইনি ও প্রশাসনিকভাবে গর্ভে থাকা শিশুর লিঙ্গ প্রকাশ রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের পথ সুগম হবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই নির্দেশনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন কিভাবে তদারকির আওতায় আনা হয়, সেটাই দেশের নীতি নির্ধারক ও স্বাস্থ্য প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে।