আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেছেন, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে উত্তরায় সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের দোহাইযুক্তদের বিচারকার্যে কোনোভাবে পক্ষপাত বা আপস মেনে নেওয়া হবে না। শনিবার (৯ মে) সকালেই উত্তরার শহীদ মীর মুগ্ধ মঞ্চে আয়োজিত গণশুনানিতে শহীদ পরিবার ও আহতদের সামনে তিনি এই অঙ্গীকার করেন।
চিফ প্রসিকিউটর স্পষ্ট করে জানান, ট্রাইব্যুনাল কোনো নির্দিষ্ট পেশাজীবী বা আমলা-প্রশাসনকে টার্গেট করে বিচার করছে না; তাদের কাজ শুধু ঘটিত অপরাধ খতিয়ে দেখে প্রকৃত দোষীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা। তিনি জানান, ইতোমধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। এসব প্রতিবেদন নিবিড়ভাবে যাচাই-বাছাই করার পর দ্রুত ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আকারে দাখিল করে বিচাচক্র শুরু করা হবে।
আমিনুল ইসলাম আরও জোর দিয়ে বলেন, এই তদন্ত কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই পরিচালিত হচ্ছে না; লক্ষ্য স্বচ্ছতা বজায় রেখে প্রকৃত দোষী শনাক্ত করা। প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচারে তারা সঠিক তদন্ত ও ন্যায়সংগত সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করবেন এবং নিরপরাধ কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হয়, তা নিশ্চিত রাখতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
গণশুনানিতে শহীদ পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন যে অনেক চিহ্নিত সন্দেহভাজন এখনও প্রকাশ্যেই ঘুরে বেড়ান এবং তাদের গ্রেপ্তার করা হয়নি। এই অভিযোগের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর পুলিশ কর্মকর্তাদের কড়া বার্তা দেন — অপরাধী যতই শক্তিশালী হোক না কেন, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না এবং অবিলম্বে গ্রেপ্তার নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের আহ্বান জানান।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগের সঙ্গে কোনোভাবেই বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে না। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে ট্রাইব্যুনালের তদন্তে পুলিশের সঙ্গে কোনো বিরোধ নেই; বরঞ্চ পুলিশ এই তদন্তে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করছে। সকলের সহযোগিতা থাকলে দ্রুত ও নির্ভুল তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানের অতিরিক্ত এক অংশে চিফ প্রসিকিউটর ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট প্রসিকিউটররা উত্তরার বিভিন্ন ‘জুলাই-আগস্ট হটস্পট’ সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। সেখানে তারা ভুক্তভোগীদের কথা শোনেন ও তাদের সমস্যার প্রতি মনোযোগী হন এবং ন্যায়বিচারের মাধ্যমে তাদের আস্থা পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতি দেন।








