আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন গঠনের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি। বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি কিছু পত্রিকায় আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টার ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন সম্পর্কিত বক্তব্য বিচ্ছিন্নভাবে প্রকাশিত হওয়ায় বিভ্রান্তি সৃষ্টির ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। তাই বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য জানানো যাচ্ছে যে, এ মুহূর্তে সংশ্লিষ্ট কোনো সরকারী সিদ্ধান্ত নেই।
আইন উপদেষ্টা তাঁর সর্বশেষ বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন যে, রাজনৈতিক দল, ছাত্র সংগঠন ও বিষয়টির সঙ্গে সম্পর্কিত বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানকালীন গণহত্যার বিচার সম্পন্ন হলে এবং সংশ্লিষ্ট নেতাদের অনুশোচনা প্রকাশ পেলে এ ধরনের কমিশন গঠন করার ব্যাপারে ভাবা যেতে পারে। তাঁর বক্তব্য ছিল, গণহত্যাকারীদের জাতি থেকে বিচ্ছিন্ন ও পরিত্যাজ্য খ্যাতি প্রতিষ্ঠার জন্যও এ ধরনের কমিশনের প্রয়োজনীয়তা হতে পারে।
এর আগে, ১০ মে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ড. আসিফ নজরুল বলেন, “দেশে একটি ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। এজন্য দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রধান বিচারপতি ও আইন উপদেষ্টাসহ একটি প্রতিনিধি দল অভিজ্ঞতা বিনিময়ে যাবে। দেশে ফিরে এসে কমিশন গঠনের জন্য বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে আলোচনা করা হবে।” রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫ (দ্বিতীয় খসড়া) বিষয়ক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে ভার্চুয়ালি লেখক, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক পিনাকী ভট্টাচার্য অংশগ্রহণ করেন এবং খসড়া আইনের বিভিন্ন ধারা নিয়ে তাঁর মূল্যবান মতামত দেন।
আইন উপদেষ্টা আরো বলেন, “অনন্তকাল হানাহানি চললে জাতির মুক্তি সম্ভব নয়, তাই জাতীয় ঐক্য গড়তে হবে। যারা গণহত্যাসহ মানবতা বিরোধী অপরাধে জড়িত, তাদের সংখ্যাটি বেশী নয়। তাদের জন্য যথাযথ ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তারা এই জাতির মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন এবং তাই একটি ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন গঠন করাটাও জরুরি।”
ড. আসিফ নজরুল বলেন, “যারা গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে, তাদের যথাযথ বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির জন্য সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে সরকার গুমসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধের বিচারের জন্য প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করবে, যাতে ভবিষ্যতে এসব অপরাধ যেন আর সংঘটিত না হয়।”









