তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা তথ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আরও বেশি সক্রিয় হয়ে অপতথ্য ও গুজব প্রতিরোধ করার জন্য বিশেষভাবে অনুপ্রেরণা দিয়েছেন।
তাঁর বক্তব্য, রাষ্ট্রের নীতি ও উন্নয়ন কর্মসূচি এবং সরকারের সাফল্যের সঠিক ও প্রাঞ্জল প্রচারে তথ্য অধিদপ্তর সবসময় প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও এই দায়িত্ব নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সাথে সম্পাদন করতে হবে।
বুধবার তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে ‘তথ্য অধিদপ্তরের কার্যক্রমকে আরও দৃশ্যমান করার লক্ষ্যে’ আয়োজিত আলোচনা ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভার সভাপতিত্ব করেন তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা মো. নিজামুল কবীর।
তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানা বলেন, সরকার যে সকল জনমুখী কর্মসূচি গ্রহণ করছে, তা জনগণের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তথ্য অধিদপ্তরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যারা সরকারের বার্তা জনসম্মুখে স্পষ্ট ও স্বচ্ছভাবে পৌঁছে দেন, তারাই আসলে মূল চালিকাশক্তি। বর্তমানে ডিজিটাল মাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরও সক্রিয় থাকা সময়ের অন্যতম দাবি।
তিনি লক্ষ্য করেন, বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অপতথ্য ও গুজব খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, যা দেশের তথ্য পরিবেশের জন্য হুমকি। তাই অপতথ্যের বিরুদ্ধে তথ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদেরই দক্ষ শক্তি হিসেবে কাজ করতে হবে এবং দ্রুত ও উন্নতমানের তথ্য প্রচারে নেতৃত্ব দিতে হবে।
কর্মীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “আপনাদের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত, শিক্ষিত ও দক্ষ। অপতথ্য ছড়ানো গোষ্ঠী সাধারণত ছোট এবং অনেক ক্ষেত্রেই অশিক্ষিত কিংবা সরকারের কার্যক্রম সম্পর্কে যথেষ্ট অবগত নয়। সেক্ষেত্রে আপনারা অনেক বেশি যোগ্য এবং দায়িত্বশীল।”
তথ্য সচিব আরও জোর দিয়ে বলেন, নিউজ ও কনটেন্ট তৈরির সময় শুধু পরিসংখ্যান তুলে ধরা যথেষ্ট নয়, মানুষের জীবনে বাস্তব পরিবর্তনের প্রভাবও সমান গুরুত্বে তুলে ধরতে হবে। এজন্য মাল্টিমিডিয়া কন্টেন্ট, ছোট ভিডিও, লাইভ কভারেজ এবং সময়োপযোগী গল্প বলার কৌশল ব্যবহারে বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে।
তরুণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুপ্রেরণা দিয়ে মাহবুবা ফারজানা বলেন, “আপনারা দেশের ‘ইয়াং স্টার’। আমি আশাবাদী আপনি সফল হবেন। প্রচার-প্রচারণার মান উন্নত করুন, লেখালেখি ও ভাষণের মান বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রতিটি সংবাদ যেন সরকারের সাফল্যের প্রাণবন্ত চিত্র হয়ে উঠে।”
তিনি আরও যোগ করেন, সংবাদ শুধু তথ্য নয়, এটি বিশ্বাসের অন্যতম ভিত্তি। সত্যনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ খবর প্রচারের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। তথ্যের এই সঠিক ব্যবহার থেকেই আমরা একটি বৈষম্যবিহীন, সাম্যবাদী সমাজ গড়ে তুলতে পারব।








