ঢাকা | শুক্রবার | ১০ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৫শে মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বাংলাফ্যাক্টের মাধ্যমে অপতথ্য বিরোধী কার্যক্রম চালাচ্ছে

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানিয়েছেন যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহার করে গুজব, অপতথ্য এবং বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা মোকাবিলার জন্য তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে প্রধানটি হলো প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ‘বাংলাফ্যাক্ট’ নামক একটি উদ্যোগ, যা গুজব ও অপতথ্য প্রতিরোধে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে, সংরক্ষিত মহিলা আসন-২৯ এর সংসদ সদস্য ফাহিমা নাসরিনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ সব তথ্য শেয়ার করেন। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত ‘বাংলাফ্যাক্ট’ ৮৬০টি সত্যতা যাচাই, বিশ্লেষণ, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, ভিডিও ও রিল প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে ৩০৬টি তথ্য প্রকাশিত হয়েছে দেশের দায়িত্ব গ্রহণের পর। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ৩ থেকে ৫টি দাবির সত্যতা যাচাই করে প্রতিবেদন তৈরি করছে এই উদ্যোগ।

জহির উদ্দিন স্বপন আরও জানিয়েছেন, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় ব্যবহার করে পরিচালিত ১৩৭টি ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, পেজ ও গ্রুপ চিহ্নিত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের সাজানো ১৬টি অপতথ্যভিত্তিক ওয়েবসাইট, ৩০০টির বেশি বিভ্রান্তিকর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ও ১০০টি এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টও চিহ্নিত করা হয়েছে।

প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গণমাধ্যমের কর্মীদের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য, ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দেশের ৬৪ জেলায় ১৪১টি প্রশিক্ষণ কর্মশালার মাধ্যমে ৬ হাজার ৭৭৪ সাংবাদিককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০টি প্রশিক্ষণে ৭৩৯ জন সাংবাদিক অংশ নিয়েছেন। এসব প্রশিক্ষণে ডিজিটাল সাংবাদিকতা, এআই ও সত্যতা যাচাই (ফ্যাক্টচেক) বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রতিটি প্রশিক্ষণে গুজব মোকাবিলা, ফ্যাক্টচেকিং অ্যান্ড সাংবাদিকতায় এআই ব্যবহারের উপর গুরুত্বসহ প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি, গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য শিগগিরই একটি ‘ফ্যাক্টচেক ম্যানুয়াল’ প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। ভবিষ্যতেও এআই ও ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহার বন্ধে নানা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

এ ব্যাপারে, প্রশ্নে এআই ও ডিপফেকের ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য মন্ত্রণালয়ের কোনো বিশেষ সেল বা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলেও, মন্ত্রী কোনো সংক্ষিপ্ত বা বিস্তারিত পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেননি।