দীর্ঘদিন কারাভোগের পর সোমবার সকালে থাইল্যান্ডের প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা প্যারোলে মুক্তি পেয়েছেন। ব্যাংককের ক্লংপ্রেম সেন্ট্রাল কারাগার থেকে বেরোনোর সময় তাঁর চারপাশে পরিবার, পিউ থাই পার্টির কর্মী এবং পুলিশের চোখে ‘রেড শার্ট’ নামে পরিচিত অনুগত সমর্থকদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গিয়েছিল।
কারাগারের প্রধান ফটকের সামনে থাকসিনকে আত্মবিশ্বাসী দেখায়; তিনি সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ব্যক্ত করে হাত জোড় নেড়েছেন এবং জাতীয় সংগীতের প্রতি সম্মানও প্রদর্শন করেছেন। এরপর তিনি একটি মার্সিডিজ-মেয়বাখ গাড়িতে উঠে কারাগার প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন এবং সমর্থকদের উদ্দেশ্যে হাত নেড়েছেন।
থাইল্যান্ডের সংশোধন বিভাগ জানিয়েছে, সাধারণ প্যারোল সুবিধার আওতায় মোট ৮৫৯ জন বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে এবং তাঁদের মধ্যেই থাকসিনের নাম রয়েছে। তবে তার মুক্তি পুরোপুরি শর্তহীন নয় — তাকে আগামী ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইলেকট্রনিক মনিটরিং (ইএম) ব্রেসলেট পড়ে থাকতে হবে। এছাড়া তিন দিনের মধ্যে প্রোবেশন অফিসে রিপোর্ট করা এবং প্যারোল চলাকালীন প্রতি মাসে নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হাজিরা দেওয়ার মতো কড়াকড়ি নির্দেশনা রয়েছে।
৭৬ বছর বয়সী থাকসিনের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির দায়ে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। ২০২৩ সালে ১৫ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে দেশে ফেরার পর থেকেই তিনি আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি ছিলেন। এই সময়ে তিনি শারীরিক কারণেই হাসপাতালেও কাটিয়েছেন কিছুটা সময়; আদালত দুই-তৃতীয়াংশ সাজা ভোগ নিশ্চিত হওয়ার পরই প্যারোলের অনুমোদন দেওয়া হয়।
তার এই মুক্তি থাইল্যান্ডের রাজনৈতিক পাঠনার জন্য গুরুত্ব বহন করে। সমর্থকরা এটিকে উচ্ছ্বাসের সঙ্গে দেখছেন, অন্যদিকে বিরোধীরা সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া এবং রাজনৈতিক পরিণতি নিয়ে সতর্ক মন্তব্য করেছেন। এখন দেখার বিষয়, থাকসিনের কারামুক্তি দেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে কীভাবে মেরুকরণ বা পরিবর্তন নিয়ে আসে।








