টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সিরিজ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে আগামীকাল মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ। সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হতে যাওয়া এই ম্যাচ সরাসরি সম্প্রচার করবে টি-স্পোর্টস ও নাগরিক টিভি।
প্রথম ম্যাচে ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং—এই সব বিভাগে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে বাংলাদেশের টাইগাররা জয় ছিনিয়ে নিয়েছিল ৭ উইকেটে। দ্বিতীয় ম্যাচেও জয় পেলে সিরিজ নিজেদের করে নেবে বাংলাদেশ, কারণ তৃতীয় ম্যাচের আগেই সিরিজ জয়ের স্বস্তি কাটিয়ে উঠবে জাতীয় দল।
পাকিস্তানের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টিতে সিরিজ জয় বাংলাদেশ জন্য এক নতুন ইতিহাসের সূচনা হতে যাচ্ছে। এর আগেও বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে প্রথমবারের মত টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের দৌড়ে ছিল।
মে মাসে পাকিস্তানের মাটিতে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। এবার ঘরের মাঠের সুবিধা কাজে লাগিয়ে প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানকে হারিয়ে সিরিজ জয় দেখাচ্ছে বাংলাদেশ।
প্রথম ম্যাচে ব্যাটিংয়ে নেমে পাকিস্তানকে মাত্র ১৯.৩ ওভারে ১১০ রানে অলআউট করে বাংলাদেশের পেস বোলার তাসকিন আহমেদ এবং মুস্তাফিজুর রহমান। টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে এটি প্রথমবার যখন বাংলাদেশ পাকিস্তানকে অলআউট করেছে। তাসকিন ২২ রানে ৩ উইকেট নেন, আর মুস্তাফিজ মাত্র ৬ রানে ২ উইকেট শিকার করেন।
জবাবে ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন মাত্র ৩৯ বলে অপরাজিত ৫৬ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন এবং বাংলাদেশকে ২৭ বল বাকি থাকতে জয় এনে দেন। মিরপুরের উইকেটে পাকিস্তানের ব্যাটাররা যেখানে সংগ্রামে ছিল, সেখানে বাংলাদেশ খুবই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ব্যাট করছিল।
পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের তিনটি জয়ই মিরপুর স্টেডিয়ামে এসেছে, তাই আজকের ম্যাচে বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস উদ্বেলিত। বাংলাদেশ অধিনায়ক লিটন দাস বলেছেন, “আমরা মিরপুর উইকেট সম্পর্কে ভালো জানি এবং এটি ব্যাটিংয়ের জন্য সহজ না হলেও যেভাবে আমরা প্রথম ম্যাচে খেলেছি তা সত্যিই দারুণ ছিল।”
বাংলাদেশের ম্যাচে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই, কারণ যে একাদশ প্রথম ম্যাচে জয় এনে দিয়েছে, সেদিেই দ্বিতীয় ম্যাচেও খেলবে দল।
অন্যদিকে, পাকিস্তানের জন্য দ্বিতীয় ম্যাচে জয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজে টিকে থাকার জন্য তাদের আর বিকল্প নেই। পাকিস্তান দলের প্রধান কোচ মাইক হেসন বলেছেন, “আমরা শুরুটা ভালো করেছিলাম কিন্তু উইকেট সংক্রান্ত ভুল ধারণা আমাদের জন্য ব্যাহত হয়েছিল। হঠাৎ করে বল লাফাতে শুরু করার পর আমরা সঠিক মূল্যায়ন করতে পারিনি এবং বাজে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
বাংলাদেশ দল: লিটন দাস (অধিনায়ক), তানজিদ হাসান তামিম, পারভেজ হোসেন ইমন, মোহাম্মদ নাইম, তাওহিদ হৃদয়, জাকের আলি অনিক, শামিম হোসেন, মেহেদি হাসান মিরাজ, রিশাদ হোসেন, মাহেদি হাসান, নাসুম আহমেদ, তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলাম, তানজিম হাসান সাকিব, মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন।
পাকিস্তান দল: সালমান আলী আগা (অধিনায়ক), আবরার আহমেদ, আহমেদ দানিয়াল, ফাহিম আশরাফ, ফখর জামান, হাসান নাওয়াজ, হুসেন তালাত, খুশদিল শাহ, মোহাম্মদ আব্বাস আফ্রিদি, মোহাম্মদ হারিস (উইকেটরক্ষক), মোহাম্মদ নাওয়াজ, সাহিবজাদা ফারহান (উইকেটরক্ষক), সাইম আইয়ুব, সালমান মির্জা, সুফিয়ান মুকিম।









