ঢাকা | সোমবার | ১১ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৮শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৪শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

পুঁজিবাজারে টানা দরপতন, সূচক নিম্নমুখী

দেশের শেয়ারবাজারে দরপতনের ঢেউ অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবারের ব্যবসায়ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)‑তে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম কমে প্রধান সূচকগুলো নেমে এসেছে। গত সাত কার্যদিবসের মধ্যে ছয় দিনই দরপতন হয়েছে এবং লেনদেনের গতিও মন্থর হয়ে পড়েছে।

ডিএসইর বাজারে সকালের দিকে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সামান্য ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেলেও তা মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে স্থিতিশীলতা হারায়। প্রথম ঘণ্টার পর বিক্রয়চাপ বাড়তে থাকে এবং দিনের বাকি অংশে সেই নেতিবাচক ধারা বজায় থাকে। দিনের শেষে ডিএসইতে ১৪৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দর বেড়েছে, ১৮৯টির দর নামেছে এবং ৫৭টির দাম অপরিবর্তিত ছিল। বিশেষ করে লভ্যাংশ দেওয়ার উপর অপেক্ষা করা ১০২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দরপতন বাজারকে মানসিকভাবে চাপযুক্ত করেছে। ‘জেড’ গ্রুপভুক্ত কোম্পানি এবং মিউচুয়াল ফান্ডের ক্ষেত্রেও বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের দর সংশোধন লক্ষ্য করা গেছে।

সূচকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১৫ পয়েন্ট নামিয়ে ৫,২০৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। বাছাই করা ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই‑৩০ সূচক ৫ পয়েন্ট এবং ডিএসই শরিয়াহ সূচক ০.৬৫ পয়েন্ট কমেছে। সূচকের পতনের সঙ্গে মিলিয়ে লেনদেনের পরিমাণও কমে ২১ কোটি ৪৮ লাখ টাকা, ফলে মোট লেনদেন দাঁড়িয়েছে ৭১৪ কোটি ৯৭ লাখ টাকায়। আজ লেনদেনে শীর্ষে ছিলেন মুন্নু সিরামিক, ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং এবং বিডি থাই ফুড; এছাড়া লাভেলো আইসক্রিম, এপেক্স ফুটওয়্যার ও এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ হাতবদল হয়েছে।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) পরিস্থিতি মোটামুটিভাবে অনুরূপ। সার্বিক সূচক সিএএসপিআই এদিন ৩ পয়েন্ট কমেছে। বাজারে অংশ নেওয়া ২০২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯৮টির দাম নেমে গেছে এবং ৭৫টির দাম বেড়ে গেছে। সিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বেড়ে ২০ কোটি ৫১ লাখ টাকায় পৌঁছেছে।

সামগ্রিকভাবে বিনিয়োগকারীদের মনোভাব সতর্ক; শুক্রবার ও পরবর্তী দিনগুলোর আর্থিক তথ্য, কোম্পানির ফল এবং বৈশ্বিক মার্কেটের গতিবিধি বাজারের দিশা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।