বাংলাদেশে শিশুদের ডায়রিয়া চিকিৎসায় অ্যান্টিবায়োটিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার দ্রুত বেড়ে চলেছে, যা শিশুদের অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ার ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। সম্প্রতি গ্রামীণ অঞ্চলের এক তৃতীয় স্তরের হাসপাতালে ১ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৮২৯৪ শিশুর ডায়রিয়া আক্রান্ত হওয়ার তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এই গবেষণা থেকে দেখা গেছে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয়ভাবে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করা হচ্ছে, যেখানে শুধুমাত্র ৬ শতাংশ শিশুর রক্তযুক্ত পায়খানার(lamakshoy) সমস্যা ছিল, যা যথেচ্ছ অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের জন্য যুক্তিযুক্ত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা অনুযায়ী, কলেরা ছাড়াও সাধারণ পানিবাহিত ডায়রিয়ায় অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন হয় না। বিশেষত উদ্বেগজনক হলো, ৭৭ শতাংশ শিশুর ক্ষেত্রে চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া স্থানীয় ফার্মেসি থেকে অ্যান্টিবায়োটিক সংগ্রহ করা হয়। আমাশয় আক্রান্ত শিশুরা সাধারণ ডায়রিয়ার তুলনায় অ্যান্টিবায়োটিক বেশি পায়, যদিও বেশিরভাগ শিশু ওরস (Oral Rehydration Salts) ব্যবহার করেছে, কিন্তু মাত্র ৭ শতাংশ শিশুই অ্যান্টিবায়োটিক ছাড়া জিংক ও ওআরএস দুটোই পেয়েছে। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, যারা হাসপাতালে আসার আগে অ্যান্টিবায়োটিক নিয়েছে তাদের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার হার ২০ শতাংশ, যা অ্যান্টিবায়োটিক নেননি তাঁদের তুলনায় (১৩ শতাংশ) বেশি। এটি ইঙ্গিত দেয় যে অযৌক্তিকভাবে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার কেবল অপ্রয়োজনীয় নয়, বরং শিশুর অবস্থা আরও খারাপ করতে পারে। অভিভাবকদের দ্রুত সুস্থ হওয়ার আকাঙ্ক্ষা, ফার্মেসির প্রতি আস্থা এবং স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের দূরত্বের কারণে অনেকেই ফার্মেসি থেকে অ্যান্টিবায়োটিক কিনে দিয়ে থাকেন। মির্জাপুরের কুমুদিনী হাসপাতালে আগত শিশুদের মধ্যে যারা দূরবর্তী এলাকা থেকে এসেছে তাদের মধ্যে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের হার বেশি পাওয়া গেছে, যা স্বাস্থ্যসেবা সুবিধার অভাবকে তুলে ধরে। গবেষকরা জানিয়েছেন, অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) বিশ্বজুড়ে একটি বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে দাঁড়িয়েছে। ২০১৯ সালে এ রোগে লাখ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এর কারণে অর্থনৈতিক ও স্বাস্থ্যের বড় ক্ষতি হবে। বিশেষ করে বাংলাদেশে শিগেলা ও ভিব্রিও কলেরা জাতীয় রোগের ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিকের অযৌক্তিক ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। গবেষকরা অ্যান্টিবায়োটিকের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনার জন্য জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রির বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। তাছাড়া ফার্মেসিতে অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রয়ের ওপর নজরদারি, স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ ও ওআরএস-জিংকের সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির গুরুত্ব পরিষ্কার করেছেন। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য করার প্রয়োজনীয়তাও জোর দিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে। এই গবেষণা প্রতিবেদনটি ২০ জুলাই বিজ্ঞানের আন্তর্জাতিক সাময়িকী নেচারে প্রকাশিত হয়েছে।








