ঢাকা | মঙ্গলবার | ২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৪ঠা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

বক্স অফিসে অপ্রতিরোধ্য ‘ধুরন্ধর ২’: এক মাসে আয় ছাড়ালো ১ হাজার ৭৪২ কোটি

সুপারস্টার রণবীর সিং অভিনীত ও নির্মাতা আদিত্য ধরের পরিচালনায় মুক্তি পাওয়া স্পাই-থ্রিলার ‘ধুরন্ধর ২’ এক মাসের মধ্যে ভারতীয় বাণিজ্যিক সিনেমার নতুন ইতিহাস গড়েছে। মুক্তির মাত্র ৩০ দিনে ছবির বিশ্বব্যাপী আয় পৌঁছেছে প্রায় ১ হাজার ৭৪২.২৩ কোটি টাকা—এমন ব্যপার সিনেমা প্রেমীদের মধ্যেও বিরল।

ট্রেড এনালিস্ট ও বক্স অফিস পরিসংখ্যান অনুসারে, এই বিশাল সূচক অর্জনে ছবিটির সিংহভাগ আয় এসেছে অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে। ভারতের প্রেক্ষাগৃহ থেকেই ছবিটির নিট আয় এখন ১ হাজার ১০৫ কোটির ওপরে পৌঁছেছে, আর বিদেশি বাজার থেকে সংগ্রহ হয়েছে প্রায় ৪১৮ কোটি টাকা। এভাবে নিজ দেশে ও আন্তর্জাতিকভাবে সমানভাবে সমাদৃত হওয়ায় ‘ধুরন্ধর 2’ বৈশ্বিক মানচিত্রেও একটা শক্ত অবস্থান করে নিয়েছে।

মুক্তির ৩০তম দিনেও ছবিটির জনপ্রিয়তা অটল থাকায় ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ৪ হাজারেরও বেশি শো চলছিল। ওই একদিনে দেশমাঠ থেকে প্রায় ২.৭ কোটি এবং বিদেশ থেকে আরও ০.৮৫ কোটি টাকা যোগ হয়, যা ধারাবাহিকভাবে ভাল পারফরম্যান্সের প্রতিফলন। সোশ্যাল মিডিয়ায় দর্শকদের উৎসাহী প্রতিক্রিয়া ও পজিটিভ কথাবার্তা ছবিটিকে টিকিয়ে রাখতে বড় ভূমিকা রেখেছে, বলে বিশ্লেষকরা বলছেন।

প্রথম সপ্তাহেই ‘ধুরন্ধর ২’ ১ হাজার কোটির দিঘী ছুঁয়েছে—এমন দ্রুত প্রবেশ করতে পারা বহু দিনের মধ্যে বিরল ঘটনা। ফলত এটি এস এস রাজামৌলির ‘আরআরআর’ এবং সাম্প্রতিক ব্লকবাস্টার ‘কল্কি ২৮৯৮ এডি’-র মতো ছবিদের আজীবনের আয়ের রেকর্ডকেও চ্যালেঞ্জ করেছে। উত্তর আমেরিকা, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় ছবিটি দুর্দান্ত আয় করে ভারতীয় ছবির জন্য নতুন সুনামি তৈরি করেছে।

চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা মনে করেন, আদিত্য ধরের ধারাবাহিক তীব্র দিশানির্দেশনা, রণবীর সিংয়ের ক্যারিয়ারের সেরা অভিনয় এবং টানটান এক্সপ্লট—সব মিলিয়ে এই বক্স অফিস সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। উন্নত ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস ও আকর্ষক প্রচারণার কারণে দর্শকরা প্রেক্ষাগৃহে টেনে আনা হয়েছে। এখান থেকে বিশ্লেষকরা আশা করছেন যদি বর্তমান গতি বজায় থাকে, ‘ধুরন্ধর ২’ খুব দ্রুতই ২ হাজার কোটির মাইলফলক স্পর্শ করবে।

এত দিনের মধ্যে ছবির এই চলমান জয়যাত্রা দেশ-বিদেশে অব্যাহত রয়েছে এবং বন্ধুরা-প্রশংসা থেকে শুরু করে ব্যবসায়িক রেকর্ড পর্যন্ত সবদিকেই ‘ধুরন্ধর ২’ এখনই বিতর্কিতভাবে নজরকাড়া নাম।