ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ১৬ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৮শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

বাহুবলী-পুষ্পাকে ছাপিয়ে ৩ হাজার কোটি পেরিয়ে রাজসিংহাসনে ‘ধুরন্ধর’ ফ্র্যাঞ্চাইজি

ভারতীয় সিনেমার বাণিজ্য জগতে নতুন অধ্যায় লেখার পথে ‘ধুরন্ধর’ ফ্র্যাঞ্চাইজি। সুপারস্টার রণবীর সিং অভিনীত এই সিরিজটি বিশ্বব্যাপী ব্লকবাস্টার হয়ে দুই ছবির সম্মিলিত আয় ৩০১৯ কোটি রুপি ছুঁয়ে ফেলেছে—এমনিতে কোনো ভারতীয় ফ্র্যাঞ্চাইজির জন্য এটা এক বিরল মাইলফলক।

গত বছরের ডিসেম্বরে মুক্তি পাওয়া প্রথম কিস্তি কেবল হিন্দি ভাষাতেই ১৩০৭ কোটি রুপি সংগ্রহ করে আন্তর্জাতিকভাবে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল। এরপর একই সিরিজের দ্বিতীয় কিস্তি ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ ১৯ মার্চ মুক্তি পেয়ে আরও বড় সাফল্য এনে দেয়; হিন্দি ছাড়াও দক্ষিণ ভারতের সব আঞ্চলিক ভাষায় মুক্তি পাওয়া এই ছবিটি বিশ্বজুড়ে ১৭১২ কোটি রুপি আয় করেছে। বিশেষত ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে এটি প্রথম কোনো হিন্দি ছবিরূপে নেট ১০০০ কোটি রুপি ছাড়ানোর নজির গড়ে—বর্তমানে ছবিটির ঘরে উঠেছে ১০৮৩ কোটি রুপিরও বেশি।

এই ফলাফল দিয়ে ‘ধুরন্ধর’ সরাসরি সেই মেগা ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর বিরুদ্ধে জায়গা করে নিচ্ছে, যাদের দীর্ঘদিন ‘রাজত্ব’ করতে দেখা যেত। উদাহরণস্বরূপ, এস.এস. রাজামৌলির ‘বাহুবলী’ দুই কিস্তি মিলিয়ে ২৪৩৮ কোটি রুপি আয় করেছিল, সুকুমারের পরিচালিত অল্লু অর্জুনের ‘পুষ্পা’ সিরিজের দুই কিস্তি মিলিয়ে ২২২১ কোটি রুপি, আর ইয়াশের ‘কেজিএফ’ সিরিজের দুটি সিনেমার সম্মিলিত আয় ১৪৫৩ কোটি রুপি। কিন্তু মাত্র দুটি কিস্তির মাধ্যমে ৩০১৯ কোটি রুপিতে পৌঁছিয়ে ‘ধুরন্ধর’ এই সব রেকর্ডকে ছাপিয়ে গেছে।

বক্স অফিসে এই উত্থানের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা দেখছেন ছবির শক্তিশালী কাস্ট এবং টানটান চিত্রনাট্যকে। রণবীর সিংয়ের বীরত্বপূর্ণ ও শক্তিশালী পারফরম্যান্স দর্শককে বারবার প্রেক্ষাগৃহে টেনে এনেছে। সঙ্গে ছিলেন অক্ষয় খান্না, অর্জুন রামপাল, আর. মাধবন ও রাকেশ বেদীর মতো অভিজ্ঞ অভিনয়শিল্পীরা। তাছাড়া দানিশ প্যান্ডর ও গৌরব গেরার মতো অভিনেতারাও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে ভালো ছাপ রেখেছেন।

ট্রেড অ্যানালিস্ট এবং বক্স অফিস বিশ্লেষণকারী ওয়েবসাইট স্যাকনিল্কের তথ্য এ সাফল্যের পুঞ্জভূমি তুলে ধরেছে—প্রতিটি বাজারে ধারাবাহিকভাবে শক্ত ফল পাওয়া গেছে, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে হিন্দি ভাষার ছবিটির গ্রহণযোগ্যতা বেশ বিস্ময়কর বলে মনে করা হচ্ছে। কিছু অঞ্চলে প্রদর্শন নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও সারাবিশ্বে ছবিটির জমাট ফল অর্জন দর্শনীয়।

বর্তমানেও ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ প্রেক্ষাগৃহে শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে এবং বিশ্লেষকদের ধারনা, ছবিটির আয় এখনও বাড়ার সম্ভাবনা আছে—শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতে এই সিরিজ আরও বড় রেকর্ড কাঁপাতে পারে। সব মিলিয়ে বলা যায়, বানিজ্যিক দিক দিয়ে ভারতীয় সিনেমায় ‘ধুরন্ধর’ এক নতুন যুগের সূচনা করেছে।