সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের নাগরিকদের শরণার্থী এবং আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে নিবন্ধনের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে প্রতি বছরই এই সংখ্যায় স্থির বৃদ্ধির ধারা দেখা গেছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থায় (ইউএনএইচসিআর) ২৮ হাজার ৪৭৩ জন বাংলাদেশি শরণার্থী হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন, যা একটি উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান।
শুধু শরণার্থী হিসেবে নয়, রাজনৈতিক আশ্রয়ের জন্য আবেদনকারী বাংলাদেশিদের সংখ্যাও এই সময়ে চোখে পড়ার মতো বেড়েছে। ২০২৪ সালে প্রায় এক লাখ ৮ হাজার ১৩১ জন বাংলাদেশি বিভিন্ন দেশের কাছে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছেন। এই সংখ্যার বেশিরভাগই ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশে আশ্রয় প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন।
জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২৩ সালে ২৪ হাজার ১২৬ জন, ২০২২ সালে ২৩ হাজার ৯৩৫ জন, ২০২১ সালে ২২ হাজার ৬৭২ জন এবং ২০২০ সালে ১৮ হাজার ৯৪৮ জন বাংলাদেশি শরণার্থী হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন। ২০১৭ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত এই সংখ্যা কিছুটা ওঠানামা করলেও সামগ্রিকভাবে বৃদ্ধির ধারা লক্ষ্য করা গেছে।
রাজনৈতিক আশ্রয়ের ক্ষেত্রেও গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। ২০২৩ সালে ৭৫ হাজার ৮৬৭ এবং ২০২২ সালে ৬১ হাজার ২৯৮ জন বাংলাদেশি রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেন, যা ২০২৪ সালেও ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
অভিবাসন ও শরণার্থীবিষয়ক বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর মতে, অনেকেই বিশাল অঙ্কের অর্থ দিয়ে অবৈধ পথে ইউরোপে যাচ্ছেন এবং সেখানে দীর্ঘসময় ধরে বসবাস করছেন, পরে শরণার্থী হওয়ার আবেদন করছেন। তিনি বলেন, ‘‘যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ যেমন মিয়ানমার, সিরিয়া ও আফগানিস্তান থেকে আসা ব্যক্তিরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শরণার্থী হিসেবে বিবেচিত হন। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এমন নয়, এখানে অনেকেই অবৈধ অভিবাসী হিসেবে গিয়ে শরণার্থী পরিচয় দিচ্ছেন, যা ইউরোপিয়ান দেশগুলোও মোটামুটি জানে।’’
আসিফ মুনীর আরও বলেন, ‘‘ইতালি, ফ্রান্সসহ ইউরোপীয় কিছু দেশ অবৈধ অভিবাসী বাংলাদেশিদের আশ্রয় দিচ্ছে, যদিও তারা প্রকৃত অর্থে শরণার্থী না। তবে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর অনেকেই ইউরোপে আশ্রয় নিয়েছেন, বিশেষত স্ক্যান্ডিনেভিয়ার দেশগুলোতে শরণার্থী হিসেবে অবস্থান করছেন।’’
এই তথ্য এবং বিশ্লেষণ থেকে স্পষ্ট যে, আন্তর্জাতিক প্রসঙ্গে বাংলাদেশি শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীদের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এই প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বিত নীতিমালা গ্রহণের মাধ্যমে মোকাবিলা করা প্রয়োজন।









