সরকারি বরাদ্দ সত্ত্বেও শুধুমাত্র ব্যাংক হিসাবভিত্তিক তথ্যের ভুল, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) সংক্রান্ত তথ্য অপ্রতুলতা এবং কে-ওয়াইসি তথ্য হালনাগাদ না থাকার কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শতাধিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী তাদের ‘বিশেষ অনুদান’ পাচ্ছেন না। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে পরিচালিত এই সহায়তা কার্যক্রমে তথ্যের ঘাটতির কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের বরাদ্দকৃত অর্থও সময়মত পাননি।
সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বাজেট শাখা থেকে একটি স্মারক প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে এ তথ্যের কথা জানা গেছে। ওই স্মারকে বলা হয়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য অনুদান প্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের তালিকা গত ১৭ জুন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়। চূড়ান্ত তালিকায় ১০১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ২৫০ জন শিক্ষক-কর্মচারী, এবং ৭ হাজার ১০০ জন শিক্ষার্থী অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
তবে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের ডিজিটাল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’ ব্যবহারের সময় দেখা গেছে, ১০১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫০টির ব্যাংক হিসাবের তথ্য ভুল থাকার কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের হিসাবভুক্ত অর্থ প্রদান সম্ভব হয়নি। একই সঙ্গে, শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থী ক্যাটাগরির ৬,৯৯৯ জনের মধ্যে ৪৬২ জনের ‘নগদ’ অ্যাকাউন্টে কে-ওয়াইসি তথ্য হালনাগাদ না থাকায় তাদেরও অনুদানের টাকা পৌঁছায়নি।
এই পরিস্থিতিতে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, যেসব শিক্ষক, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা এখনও তাদের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস নম্বরে অনুদান পাননি, তাদেরকে ৭ আগস্টের মধ্যে কে-ওয়াইসি তথ্য হালনাগাদ করতে হবে। এছাড়া, যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব তথ্য ভুল রয়েছে, তাদের সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাব নম্বর, শাখার নাম, রাউটিং নম্বর ও হিসাবের নামসহ প্রয়োজনীয় তথ্য প্রতিষ্ঠান প্রধানের স্বাক্ষর এবং ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতির প্রতিস্বাক্ষরসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাজেট শাখায় নির্ধারিত ইমেইল ঠিকানায় পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য প্রদান বা হালনাগাদ না করলে অনুদান বিতরণে বিলম্ব হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকার নিশ্চিত করতে চায় যে, যথাযথ তথ্যের ভিত্তিতে ‘বিশেষ অনুদান’ দ্রুত এবং সঠিকভাবে উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছায়।








