ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৩ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

ব্রুনাইয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নিহত জামালের মরদেহ পৌঁছেছে ভোলায়

ব্রুনাইয়ে বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে জীবনের শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করা ভোলার ছেলে জামাল হোসেন (৩৫) এর মরদেহ মৃত্যুর ১৩ দিন পর কফিন বন্ধী অবস্থায় নিজ গ্রামের বাড়ি ভোলায় এসে পৌঁছেছে।

সোমবার (৪ আগস্ট) দুপুরে ভোলার পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের জাহাঙ্গালিয়া গ্রামে জামালের মরদেহ কফিনে আনা হলে তার স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে মৌতাজ্জনা নামাজের আয়োজন করা হয় এবং পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

জামালের মৃত্যু ঘটে গত ২২ জুলাই, যখন তিনি ব্রুনাইয়ের চীনারুপাই শহরের একটি নির্মাণ প্রকল্পে কাজ করার সময় বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হন। ময়নাতদন্ত শেষে তার মরদেহ একটি হিমাগারে সংরক্ষণ করা হয়েছিল। সর্বশেষ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করে গতকাল (৩ আগস্ট) রাত ১টায় বেসরকারি ফ্লাইটে তার লাশ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। এরপর স্বজনরা কফিনবন্ধী মরদেহ নিয়ে ভোলার উদ্দেশ্যে রওনা দেন এবং আজ দুপুরে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছান।

নিহত জামাল ওই গ্রামের হাদিস মিয়ার সন্তান। তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে জামাল ছিলেন সবার ছোট সন্তান। আদরের ছেলেকে হারিয়ে তার বাবা-মা ও পরিবারের সবাই দিশেহারা।

স্বজনরা জানায়, জামাল ৩ আগস্ট ছুটিতে প্রবাস থেকে দেশে ফিরে আসার কথা ছিলো, ৪ আগস্ট নিজ বাড়ি ভোলায় আসার কথা থাকলেও বরাবর তার ইচ্ছা ছিলো দেশে এসে বিয়ে করার। কিন্তু দেশে ফেরার দিন জামাল জীবিত নয়, কফিন বন্ধ লাশ হিসেবে এসেছেন।

মরদেহ গ্রামের বাড়ি পৌঁছানোর পর হাজারো লোকজন সেখানে জড়ো হয়। জামালের কফিন ঘিরে তার বাবা-মা, ভাই-বোনের আহাজারি থামছিল না। তার অকাল মৃত্যুকে কেউ মানতে পারছেন না।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, জামাল প্রায় এক দশক আগে অভাব-অনটনের কারণে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ব্রুনাই দেশে পাড়ি জমান। সেখানে তিনি একটি নির্মাণ প্রকল্পে ইলেক্ট্রিশিয়ান হিসেবে কাজ করছিলেন। ঘটনার দিন জামাল ও তার এক সহযোগী একসাথে কাজ করছিলেন। ঘটনার অনতিকালে জামালের সহকর্মী অপর বাংলাদেশি সন্ধ্যায় ফোনে পরিবারের কাছে জামালের দুঃখজনক মৃত্যুর খবর জানান।

জামালের বাবা হাদিস মিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার ছেলে প্রতি মাসে দেশে আসতে চেয়েছিল, কিন্তু ছুটি না পাওয়ায় আসতে পারেনি। এখন তার চিরতরে ছুটি হয়ে গেলো। আমার ছেলে আমাকে রেখে এতো দ্রুত চলে যাবে এটা আমি মেনে নিতে পারছি না।’

জামালের প্রতিবেশীরা জানান, তিনি ছিলেন একজন পরিশ্রমী ও সৎ ব্যক্তি। ছুটিতে বাড়ি এলে সবাইকে বিনয়ের সঙ্গে গ্রহণ করতেন। তার এমন অকাল মৃত্যু সবাইকে শোকাহত করেছে এবং কেউই এটি মেনে নিতে পারছেন না।