ঢাকা | রবিবার | ৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৪শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২১শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

ভ্যাট রিটার্নে বড় পরিবর্তন: মাসিক নয়, এবার ত্রৈমাসিক দাখিল

ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের বোঝা কমাতে এবং ব্যবসা সহজ করতে ভ্যাট রিটার্ন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট থেকে ভ্যাট নিবন্ধিত ব্যবসায়ীদের জন্য বারবার মাসিক রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা তুলে দিয়ে এবার ত্রৈমাসিক — অর্থাৎ বছরে চারবার — রিটার্ন দাখিলের সুযোগ দিচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

এনবিআরের ব্যাখ্যা অনুসারে নতুন পদ্ধতির মূল লক্ষ্য রিটার্ন দাখিলকে সহজ করা ও প্রশাসনিক জটিলতা কমানো। মাসিক ফরমালিটি আর দরকার হবে না। ব্যবসায়ীরা প্রতি তিন মাস অন্তর একবার করে রিটার্ন জমা দিলে চলবে, ফলে সময় ও খরচ দুইটাই সাশ্রয় হবে।

একই সঙ্গে ভ্যাট ব্যবস্থাটি শতভাগ স্বয়ংক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এনবিআর বলছে, রিটার্ন ও অডিট প্রক্রিয়া ডিজিটালি পরিচালিত হলে করদাতাদের আর নথিপত্র নিয়ে ভৌতভাবে ঘোরাঘুরি করতে হবে না। কোনো প্রতিষ্ঠান যদি তাদের লেনদেন ইআরপি সফটওয়্যারে রাখে, সেই ডিজিটাল রেকর্ডের ভিত্তিতেই অডিট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হবে; ম্যানুয়াল হস্তক্ষেপ লাগবে না বললেই চলে।

বর্তমানে ভ্যাট আইন অনুযায়ী নিবন্ধিত প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে প্রতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে অনলাইনে ‘মূসক-৯.১’ ফরমে রিটার্ন জমা দিতে হয়। সামান্য দেরিতেই জরিমানা ও অতিরিক্ত সুদ ধার্য হওয়ার কারণে ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য এই মাসিক ব্যবস্থাটি বড় বোঝা হয়ে উঠেছিল। অনেকেই এই জটিলতার কারণে ভ্যাটের আওতা এড়িয়ে চলতেন।

নতুন ত্রৈমাসিক পদ্ধতি চালু হলে এনবিআর আশা করছে করদানের উত্সাহ বাড়বে এবং কর ফাঁকির প্রবণতা কমবে। প্রশাসনিক খরচ ও সময় বাঁচলে নিবন্ধনপ্রাপ্ত ব্যবসা বাড়ার সম্ভাবনাও থাকবে।

এনবিআরের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী বর্তমানে দেশে প্রায় ৭ লাখ ৭৫ হাজার ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান আছে। গত ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে একটি বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রেকর্ড ১ লাখ ৩১ হাজার নতুন প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাটের আওতায় আনা হয়েছিল। এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে মিলিয়ে এনবিআর আগামী অর্থবছরে ভ্যাট নিবন্ধন ২০ লাখে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

নতুন নিয়মাবলি ও প্রযুক্তিভিত্তিক অটোমেশন কার্যকর হলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যবসা আরও অনুকূল হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছে। বাস্তবে পরিবর্তন কবে থেকে কার্যকর হবে এবং বাস্তবায়নে যেসব প্রযুক্তিগত ও প্রশিক্ষণগত প্রস্তুতি লাগবে, সেগুলো কীভাবে পূর্ণ করা হবে তাও এখন দেখার বিষয়।