ঢাকা | বুধবার | ৬ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৯শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

মুক্তির আগেই পাইরেসির শিকার রাশিদ পলাশের ‘রঙবাজার’

ঢাকাই চলচ্চিত্রে আবারও পাইরেসির থাবা। মুক্তির আগেই অনলাইনে ফাঁস হয়ে গেছে নির্মাতা রাশিদ পলাশের বহু প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘রঙবাজার’ — বর্তমানে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও পাইরেসি সাইটে সিনেমাটির পূর্ণাঙ্গ এইচডি প্রিন্ট দেখা যাচ্ছে। প্রেক্ষাগৃহে দেওয়ার আগেই এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার খবর পাওয়ার পর নির্মাতা, প্রযোজক ও সিনেমা সংশ্লিষ্টরা গভীর উদ্বেগে পড়েছেন।

নির্মাতা রাশিদ পলাশের এই ছবিটি বাস্তব ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্মিত; প্রায় চার বছর আগে ৪শ’ বছরের পুরনো একটি যৌনপল্লি উচ্ছেদের সত্য কাহিনী থেকেই এর গল্প নেওয়া হয়েছে। ২০২২ সালে শুটিং শুরু হওয়া ‘রঙবাজার’-এর বেশিরভাগ দৃশ্য ধারন করা হয়েছে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ার সেই এলাকাতেই। পল্লীটি এক রাতের মধ্যে ধ্বংস হওয়া, সেখানে বসবাসকারী নারীদের সংগ্রাম ও সামাজিক সংকট—এসবই সিনেমার মূল উপজীব্য, যা বাস্তবসম্মতভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। এজন্য শুরু থেকেই চলচ্চিত্রপ্রেমীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল এই প্রতিটি অংশ।

প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান লাইভ টেকনোলজিসের ব্যানারে নির্মিত ছবিটির চিত্রনাট্য লিখেছেন গোলাম রাব্বানী এবং মূল গল্প দিয়েছেন তামজিদ অতুল। সিনেমাটি কয়েকবার মুক্তির প্রস্তুতি নিয়েও নানা কারিগরি ও কৌশলগত কারণে পিছিয়ে গিয়েছিল। সম্প্রতি ট্রেলার ও ফার্স্টলুক প্রকাশ করে ঈদুল ফিতরে মুক্তির ইঙ্গিত দেন নির্মাতা, পরে কোরবানির ঈদের পর আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি দেওয়ার ঘোষণা করেন। কিন্তু পরিকল্পিত মুক্তির আগেই ফাঁস হওয়ায় ব্যবসায়িক ঝুঁকি অনেক বেশি বেড়ে গেছে।

চিত্রনাট্য ও কাহিনীকে শক্তিশালী করে তুলতে একঝাঁক অভিজ্ঞ অভিনেতা-অভিনেত্রী কাজ করেছেন। পিয়া জান্নাতুল একজন চিত্রনায়িকার ভূমিকা পালন করেছেন, আর যৌনকর্মীর চরিত্রে দেখা যাবে শম্পা রেজা, নাজনীন হাসান চুমকী ও তানজিকা আমিনকে। মাদক কারবারির ভূমিকায় রয়েছেন মৌসুমী হামিদ, রাজনৈতিক নেতার চরিত্রে অভিনয় করেছেন লুৎফর রহমান জর্জ ও মাহমুদুল ইসলাম মিঠু। শাহজাহান সম্রাট, প্রণব ঘোষসহ আরও অনেকে ছবিটিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।

পাইরেসি ফাঁসের খবর পেয়ে নির্মাতা রাশিদ পলাশ তীব্র ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে ইতোমধ্যে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে এবং প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানকে বিষয়টি সকল পর্যায়ে নিয়ে আলোচনা করতে বলেছেন। সাইবার অপরাধীদের শনাক্ত করে কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছেন তিনি।

চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা বলছেন, ধারাবাহিকভাবে এমন পাইরেসির আঘাত ঢাকাই সিনেমার ব্যবসায়িক সম্ভাবনা ও নির্মাতাদের পরিশ্রমকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। শেষ পর্যন্ত আইনি পদক্ষেপ ও প্রযুক্তিগত প্রতিরোধ কতটা কার্যকর হবে—এটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। চলচ্চিত্রটির ভবিষ্যৎ এবং যে প্রচেষ্টা চলছিল তা রক্ষা পাবে কি না, সেটাই দেখে ধরছে শিল্পী ও নির্মাণকর্মীসহ পুরো চলচ্চিত্রভিত্তিক পরিমণ্ডল।