ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ১৬ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২রা সফর, ১৪৪৮ হিজরি

রপ্তানি, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে বেপজার অভূতপূর্ব রেকর্ড

বিশ্ব অর্থনীতির মন্দা ও সার্বিক রপ্তানির নেতিবাচক পরিবেশের মধ্যেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা) অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে। সাম্প্রতিক অর্থবছরে বেপজা শুধু রপ্তানি আয় বাড়িয়েছে না, বরং বিনিয়োগ আকর্ষণ ও নতুন কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য মাইলফলক তৈরি করেছে।

তথ্য থেকে জানা যায়, যখন দেশের মোট রপ্তানি আয় ০.৫৮ শতাংশ কমেছে, তখন বেপজার আওতাধীন জোনগুলোর রপ্তানি গত বছরের তুলনায় ২.২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। মোট রপ্তানি আয় ৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মধ্যে বেপজার অবদান ছিল ৮.৪১ বিলিয়ন ডলার, যা জাতীয় রপ্তানির প্রায় ১৭.৫১ শতাংশ। এই সংখ্যাগুলো ইঙ্গিত করে যে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও বেপজার শিল্পাঞ্চলগুলো তাদের উৎপাদন ও রপ্তানি ধারাকে স্থিতিশীল রাখতে সক্ষম হয়েছে।

বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ২০২৫-২৬ অর্থবছর বেপজার জন্য বিশেষ সাফল্যের বছর ছিল। চীন, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ নানা দেশ থেকে মোট ৩৬টি প্রতিষ্ঠান বেপজার সঙ্গে চূড়ান্ত বিনিয়োগ চুক্তি করেছে। এসব বিনিয়োগ প্রস্তাবের মোট মূল্য ৭১৭.৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বেপজার ইতিহাসে একক বছরে সবচেয়ে বড় সংখ্যা। এসব প্রকল্প পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে অন্তত ৭৫,৭৪৪ জনের বেশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়িয়ে একক খাতে নির্ভরতা কমানোতেও বেপজা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় রয়েছ। প্রচলিত পোশাক শিল্প ছাড়িয়ে এখন অনেক প্রতিষ্ঠানে ব্লুটুথ হেডফোন, ড্রোন, ল্যাগেজ ও উন্নত ইলেকট্রনিক পণ্য উৎপাদন শুরু হয়েছে। এর ফলেই বেপজাধীন জোনগুলিতে কর্মরত শ্রমিকের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫,৫৮,৬৯১ জন — যা এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই কর্মসংস্থান বৃদ্ধিই দেশের দারিদ্র্য বিমোচনে বড় অবদান রাখতে পারে।

বেপজার দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও অনুকূল ব্যবসায়িক পরিবেশের কারণে বহু বিদেশি প্রতিষ্ঠান তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারিত করছে। উদাহরণস্বরূপ, চীনের খাইশি গ্রুপ সফলতা ধরে রেখে পুনরায় বড় অংকের বিনিয়োগের চুক্তি করেছে। বর্তমানে বেপজা উৎপাদিত পণ্য বিশ্বের ১২৯টি দেশে সরবরাহ করা হচ্ছে, যা বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড ইমেজকে আরও শক্তিশালী করেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেপজার এই সফলতা দেশীয় শিল্পায়নকে ত্বরান্বিত করবে ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে। ভবিষ্যতে নীতি ও অবকাঠামো আরও উন্নত রাখা গেলে এই প্রবণতা অব্যাহত রেখে দেশের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।