ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৪শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২০শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

রাঙ্গামাটির দুর্গম পাহাড়ে বিরল প্রজাতির গোলাপি হাতির আবিষ্কার

রাঙ্গামাটির দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে বিরল এক প্রজাতির গোলাপি রঙের হাতির বাচ্চা দেখা গিয়েছে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এই বিশেষ রঙের হাতির বাচ্চাটি রাঙ্গামাটির পাহাড়ে আবিষ্কৃত হলো, যার বয়স আনুমানিক দুই থেকে তিন সপ্তাহ।

বরকল উপজেলার সুভলংয়ের বরুনাছড়ি ইউনিয়নের ফরেস্টের এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম (ইআরটি) প্রধান সমন্বয়কারী মো. জাহাঙ্গীর আলম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এই ধরনের গোলাপি রঙের হাতি বাংলাদেশে আগে কখনো দেখা যায়নি, যা প্রাণিজগতের জন্য একটি বিস্ময়কর ঘটনা। রাঙ্গামাটি শহর থেকে স্পিডবোটে মাত্র এক থেকে দেড় ঘণ্টায় এই দুর্গম এলাকা পৌঁছানো সম্ভব।

জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তিনিই প্রথম এই বিশেষ গোলাপি রঙের হাতি শাবকসহ হাতির পাল কাপ্তাই হ্রদের পার্শ্ববর্তী বরুনাছড়িতে দেখতে পান এবং দ্রুত সেই ভিডিও সাবেক বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিমকে পাঠান। ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচিত হয়।

বর্তমানে ওই এলাকায় মোট আটটি হাতি রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে নতুন এই গোলাপি বাচ্চাসহ পাঁচটি হাতির দল। অন্যান্য দুইটি হাতি একসঙ্গে এবং আরেকটি বড় হাতিও সেখানে উপস্থিত রয়েছে। স্থানীয়দের জানিয়েছেন, এই সুদর্শন গোলাপি বাচ্চাটির গায়ের রং অন্যান্য হাতির বাচ্চার তুলনায় বেশ আলাদা এবং এটি প্রকৃতিতে খুবই বিরল।

রাঙ্গামাটি সার্কেলের বন সংরক্ষক মোহাম্মদ আবদুল আউয়াল সরকার বলেন, হাতির এই বিরল রঙের সঠিক কারণ জানতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। নিউট্রিশন বা জিনগত অস্বাভাবিকতাও এর জন্য দায়ী হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেছেন, বন বিভাগ এবং এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম হস্তক্ষেপ করে হাতিদের সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করছেন।

জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও অধ্যাপক এম মনিরুল এইচ খান বলেছেন, হাতির গায়ের রং সাধারণত কালচে হলেও, রঞ্জক পদার্থে অস্বাভাবিকতার কারণে এর রং ফ্যাকাশে বা গোলাপি হতে পারে। এ ধরনের ঘটনা এশীয় হাতিদের মধ্যে অত্যন্ত দুর্লভ এবং এটি একপ্রকার জেনেটিক বৈচিত্র্যের নিদর্শন।

অধ্যাপক মনিরুল এইচ খান আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের বনাঞ্চল ক্রমেই কমে আসায় হাতিদের আবাসস্থল সংকুচিত হচ্ছে, যা তাদের ও মানুষের মধ্যে দ্বন্দ্ব বাড়াচ্ছে। তিনি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, বিরল এই হাতির প্রজাতি সংরক্ষণের জন্য বন সংরক্ষণ ও স্থানীয় উদ্ভিদবৃক্ষ রোপণের মাধ্যমে এক ভাল অভয়ারণ্য গড়ে তোলা উচিত।

স্থানীয়রা এই বিরল প্রজাতির গোলাপি হাতির বাচ্চা ও হাতির দলকে নিরাপদে রাখতে বন বিভাগের পাশাপাশি সরকারের থেকে আরও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করছেন। পাহাড়ের আদ্র ও দুর্গম এই এলাকায় হাতির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে মানুষের অবাধ প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ ও আইনসম্মত সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি।

বর্তমানে এই বিরল প্রাণী দেখতে দেশজুড়ে গবেষক, প্রাণিপ্রেমী ও পর্যটকরা আগ্রহ নিয়ে এই এলাকায় আগমন করছেন। তবে স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, যথাযথ রক্ষা না হলে হাতি ও মানুষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে, যা দু’পক্ষের জন্যই বিপদজনক। তাই অবিলম্বে এই এলাকাটি সরকারি ভাবে সংরক্ষিত অভয়ারণ্য ঘোষণা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন।