ঢাকা | বুধবার | ২৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১২ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

রূপগঞ্জে জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী: ভোগান্তিতে কয়েক লাখ মানুষ

ঢাকার উপকণ্ঠস্থ রূপগঞ্জের তিন লাখের বেশি মানুষ বছরে বসেই জলাবদ্ধতার ভোগান্তিতে দিনযাপন করছেন। আকাশে মেঘ জমলেই কাঞ্চন ও তারাবো পৌর এলাকার নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদী সেচ প্রকল্পের আশপাশের জনগণ উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠে। সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতে বিভিন্ন স্থানে হাঁটু থেকে কোমর পর্যন্ত পানি জমে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার লক্ষণ স্পষ্ট হচ্ছে।

বিশেষ করে তারাবো পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় পানি নিষ্কাশনের জন্য খালগুলো সংস্কার না করায় সমস্যা আরো তীব্র হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। বর্তমানে রূপগঞ্জের ৩০টি এলাকার প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি। দরিদ্র ও নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। বৃষ্টির পানি জমে রাস্তা-ঘাট তলিয়ে গেছে, গবাদি পশু ও মানুষ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে, বিশুদ্ধ পানির সংকটও বাড়ছে। কয়েকটি শিল্পকারখানার বর্জ্যযুক্ত কালো জলে পরিবেশ সয়লাব হয়ে ওঠায় চর্মরোগ, এলার্জিসহ নানা রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়েছে।

১৯৮৪ সালে নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদী অগ্রনী সেচ প্রকল্প-১ ও ১৯৯৩ সালে শীতলক্ষ্যার পূর্ব পাড়ে নির্মিত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ সত্ত্বেও, নিয়মিত জনবসতি বৃদ্ধির ফলে জলাবদ্ধতার মাত্রা দিন দিন না কমে বাড়ছেই। অপরিকল্পিতভাবে শিল্পকলা ও আবাসিক এলাকা গড়ে ওঠার পর থেকে সমস্যা তীব্রতর হয়েছে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সংস্কারকাজের বর্জ্য ফেলে পানি নিস্কাশনের খাল অবরুদ্ধ হওয়ায় মসজিদ ও কবরস্থান পর্যন্ত প্রভাবিত হয়েছে।

স্থানীয়রা দৈনন্দিন জীবনে পানিবন্দির কারণে নানা বিপদাপদে জর্জরিত। কেউ বাঁশের মাচার ওপর বাস করছেন, কেউ আত্মীয়স্বজনের ঘরে আশ্রয় নিয়েছেন। দোকান-দোকানদার ও ব্যবসায়ীদের কাজকর্ম বন্ধ হয়ে পড়েছে। স্কুলগামী ছাত্রছাত্রীরা বৃষ্টিপাতের দিনে স্কুলে যেতে পারেনা।

স্থানীয়রা বলছেন, পানি নিষ্কাশনের খালগুলো দখল হয়ে গেছে এবং অনেক জায়গায় বর্জ্যে ভরে গেছে, যার কারণে জলাবদ্ধতা বাড়ছে। বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ ঘর ছাড়া হয়ে পড়ছেন, আর শিশুরা শীত, জ্বর ও চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার কারণে পরিস্থিতি ক্রমেই দুঃসহ রূপ নিয়েছে।

রূপগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ আক্তার হোসেন জানান, খাল ভরাট, পাম্পের কাজ অচল ও অপ্রতিষ্ঠিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা মূল কারণ। তবে নতুন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে, যা দ্রুত কার্যকর করা হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল ইসলাম জয় জানিয়েছেন, গত ১১ মাসে ৮টি খাল পুনরুদ্ধার করা হয়েছে এবং পানির নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত করতে দ্রুত উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-পরিচালক রাকিবুল আলম রাজিব বলেন, খাল দখলমুক্ত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, যাতে স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশন ফিরে আসে। এ কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে তাঁদের তরফ থেকে প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয়রা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, জলাবদ্ধতা যেন তাদের অতীত নয়, বরং এক অনিবার্য বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অবিলম্বে সরকারি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত পদক্ষেপ ছাড়া এ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি অসম্ভব বলে মনে করছেন তারা।