ঢাকা | রবিবার | ২৬শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১২ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

শীত আসছে, খেজুর রস সংগ্রহের প্রস্তুতি শুরু

সকাল-সন্ধ্যার হালকা ঠাণ্ডা হাওয়ায় শীতের আগমনী বার্তা স্পষ্ট। যদিও এখনো সিরা কেমন জমেনি, তবুও খেজুর রস সংগ্রহের প্রস্তুতি শুরু করেছেন গাছিরা। তারা ব্যস্ত সময় পার করছেন খেজুর গাছ পরিষ্কার ও ছাঁটাইয়ের কাজ নিয়ে। শীতের সঙ্গে খেজুর রসের গভীর সম্পর্ক থাকায় এ মৌসুমে তারা এই কাজগুলো ত্বরাত্বে সম্পন্ন করেন।

গাছি মিজানুর বলেন, ‘আগে যেখানে ছুরি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায় পাওয়া যেত, এখন তা হাজার পনেরো AtendimentoPrices চে, কর্মসাধন ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি সংগ্রহের জন্য খরচ আরও বেড়ে গেছে।’ উপজেলাজুড়ে বিভিন্ন গ্রামে খেজুর গাছের রস আহরণের জন্য প্রস্তুতি শুরু করেছেন গাছিরা। তারা নিয়মিত গাছগুলো পরিষ্কার-পরিছন্ন করে এবং গাছের ছাল ছেঁটে ঝরানোর কাজ শুরু করেছেন। এর জন্য তারা ধারালো অস্ত্র, স্থানীয় ভাষায় ‘ছ্যান’, ব্যবহার করেন।

গাছি রফিক, রশিদ ও মাসুদ জানান, শীতে গ্রামে গ্রামে খেজুর রসের পিঠা-পুলির ধুম পড়ে। স্থানীয় মানুষজন এই সময় বিভিন্ন ধরনের পিঠা, পায়েস ও অন্যান্য খাদ্য প্রস্তুত করে পরিবার ও স্বজনদের জন্য। তারা আরও উল্লেখ করেন, এক সময় এখানে অনেক বেশি খেজুর গাছ ছিল, তবে সময়ের পরিবর্তনে অনেক গাছ কেটে ফেলা হয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিসের সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে উপজেলায় মোট প্রায় ২৪ হাজার খেজুর গাছ রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গাছের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আফরোজা সুলতানা বলেন, ‘সরকারি উদ্যোগে গাছিদের মধ্যে হাঁড়ি ও ছুরি বিতরণ করা হয়েছে। যদি আমরা আধুনিক চুলা, গাছে ওঠার সরঞ্জাম এবং উন্নত প্রশিক্ষণ দিতে পারি, তবে এই ঐতিহ্য আরো সমৃদ্ধ ও দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে।’ এভাবেই শীতের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে খেজুর রসের মৌসুম শুরু হয়ে যায়, যা শুধু ঐতিহ্যই নয়, অর্থনৈতিক গুরুত্বও বহন করে।