বিসিসিআই তরুণদের উপর দায়িত্ব আরোহনের ইঙ্গিত রেখে বড় মোড় দিয়েছে ভারতীয় টি-টোয়েন্টি দলে। আসন্ন আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড সফরের জন্য ঘোষিত স্কোয়াডের নেতৃত্বে অবশ্যই দেখা যাচ্ছে পরিবর্তন — অধিনায়কের দায়িত্ব পেলেন শ্রেয়াস আইয়ার। আর সবচেয়ে বড় চমক— মাত্র ১৫ বছরবয়সী বিস্ময়বালক বৈভব সূর্যবংশী প্রথমবারের মতো জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন। একই সঙ্গে বর্তমান অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব স্কোয়াড থেকে রয়েছেন বাইরে।
সূর্যকুমারকে বাদ দেওয়া ব্যাটসম্যানটির জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে; নির্বাচকরা তাঁর সাম্প্রতিক আইপিএল ফর্ম এবং ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতির প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে, প্রায় তিন বছর পর ফের জাতীয় দলে অবশ্যই বড় বিশ্বাস দেখিয়েছেন নির্বাচকরা — ৩১ বছর বয়সী শ্রেয়াস আইয়ারকে সরাসরি অধিনায়কের ভূমিকায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে। আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে শিরোপা জয়ের স্মৃতি এবং বিভিন্ন দলকে ফাইনালে নিয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা নির্বাচকদের আস্থার কারণ হিসেবে কাজ করেছে; তিনি সর্বশেষ ভারতীয় জার্সিতে টি-টোয়েন্টি খেলেছিলেন ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে।
স্কোয়াডের সবচেয়ে আলোচিত নাম ১৫ বছরের বৈভব সূর্যবংশী। আইপিএলে দুর্দান্ত পারফর্ম্যান্সের কারণে তিনি দেশের ভবিষ্যৎ টি-টোয়েন্টি পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন এবং অনেকেই তাঁকে ২০২৮ অলিম্পিকের পরিপ্রেক্ষিতেও ভবিষ্যৎ সম্ভাব্যতায় গণ্য করছেন। তবে সরাসরি দলে নামানোর আগে বৈভবকে অলিখিতভাবে অভিজ্ঞতা বৃদ্ধির জন্য ‘এ’ দলের হয়ে শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজে পাঠানো হচ্ছে—বড় মঞ্চের চাপ সামলানোর প্রস্তুতি হিসেবে এই সিদ্ধান্তকে দেখা হচ্ছে।
নতুন ঘোষণা অনুযায়ী ভারত আগামী ২৬ ও ২৮ জুন আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি টি-টোয়েন্টি খেলবে। এরপর ১ থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের একটি পূর্ণাঙ্গ টি-টোয়েন্টি সিরিজ অনুষ্ঠিত হবে। ঘোষিত ১৫ সদস্যের স্কোয়াডে তিলক ভার্মাকে সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। দলেই আছেন অভিষেক শর্মা, সঞ্জু স্যামসন ও ইশান কিষানের মতো ব্যাটিং-তরকাগণ; বোলিং ইউনিটে স্থান পেলেন মোহাম্মদ সিরাজ, অर्शদীপ সিং ও হর্ষিত রানা। এছাড়া নতুন মুখ হিসেবে সুযোগ পেয়েছেন নীতিশ কুমার রেড্ডি ও প্রিন্স যাদব।
এই স্কোয়াডকে অনেক আলোচিতরা আগামী বিশ্বকাপের প্রস্তুতির বড় পরীক্ষার রূপে দেখছেন। অভিজ্ঞতা ও তরুণ সঞ্চয়ের মিশেলে শ্রেয়াস আইয়ারের নেতৃত্বে দলের আচরণ বিদেশি মাটিতে কেমন হবে—তা থেকেই নির্ধারিত হবে ভারতের টি-টোয়েন্টি ভবিষ্যৎ কৌশল। বিশেষজ্ঞদের মতে সূর্যকুমারকে বাদ দিয়ে ১৫ বছরের বৈভবকে দলে নেওয়া একটি স্পষ্ট সংকেত যে ভারত নতুন প্রজন্মকে প্রসারিত করতে চাইছে।
ফ্যানদের নজর এখন প্রধানত কনিষ্ঠতম সদস্য বৈভবের দিকে। তাঁর প্রতিভা নিয়ে ইতিমধ্যেই ব্যাপক আলোচনা ও উত্তেজনা আছে; এখন দেখার, কঠোর আন্তর্জাতিক চাপের সামনে তিনি কীভাবে নিজেকে প্রমাণ করেন। নির্বাচকরা স্পষ্ট করেছেন—এটাই একটি পরিকল্পিত পদক্ষেপ, যেখানে তরুণ প্রতিভাদের সঠিক মঞ্চ ও অভিজ্ঞতা দিয়েই দেশের টেনটেটিভ ভবিষ্যৎ গড়তে চাওয়া হচ্ছে।








