ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৪শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২০শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

সমুদ্রসীমার পরিপূর্ণ হাইড্রোগ্রাফিক তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস দেশের সমুদ্রসীমার একটি পরিপূর্ণ এবং নির্ভুল হাইড্রোগ্রাফিক তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার জন্য হাইড্রোগ্রাফিক পেশাজীবীদের কাছে আরও বেশি পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সমুদ্র তলদেশের নির্ভুল মানচিত্রায়নের ওপর ভিত্তি করে একটি কার্যকর, টেকসই এবং উন্নত সমুদ্রনীতি গড়ে তুলতে হবে, যা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরও মজবুত ও সমৃদ্ধ করবে।

বিশ্ব হাইড্রোগ্রাফি দিবস-২০২৫ উপলক্ষে আজ শুক্রবার দেওয়া এক বাণীতে প্রধান উপদেষ্টা এ আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, ‘‘প্রতি বছর বাংলাদেশের এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে আমি আনন্দিত।’’ তিনি বাংলাদেশ নৌবাহিনীসহ দিবসটির আয়োজনের সাথে যুক্ত সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য ‘সিবেড ম্যাপিং: এনাবলিং ওশান এ্যাকশন’ গভীর সমুদ্রের তলদেশের মানচিত্রায়নের গুরুত্বকে তুলে ধরে যা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক বলে তিনি মনে করেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বঙ্গোপসাগর শুধু বাংলাদেশের জন্যই নয়, বরং পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর জন্যও অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রধান অবলম্বন। বঙ্গোপসাগরের গুরুত্বের কথা বিবেচনা করে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার দেশকে একটি উৎপাদনমুখী ও আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কেন্দ্রে রূপান্তরের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। এই লক্ষ্যে সমুদ্র সম্পদকে আরও বেশি কার্যকরভাবে ব্যবহারের জন্য হাইড্রোগ্রাফিক তথ্যের আধুনিক, হালনাগাদ এবং নির্ভুল ভিত্তি অপরিহার্য।

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল ও সমুদ্রসীমার হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ, চার্ট তৈরি এবং দেশের ও আন্তর্জাতিক জলপথে চলাচলকারী সকল জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর হাইড্রোগ্রাফিক বিভাগ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। জাতিসংঘের সমুদ্র আইন অনুযায়ী মহীসোপান অঞ্চল নির্ধারণ এবং নীল অর্থনীতি বিকাশে এই বিভাগের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রফেসর ইউনূস আশা প্রকাশ করেন, হাইড্রোগ্রাফিক বিভাগ সামরিক ও নৌ-নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সমুদ্র বন্দরের উন্নয়ন, মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ, তেল-গ্যাস অনুসন্ধান এবং উপকূলীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।

অবশেষে, তিনি ‘বিশ্ব হাইড্রোগ্রাফি দিবস-২০২৫’ উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচির সফলতা এবং সাফল্য কামনা করেন।