ঢাকা | রবিবার | ১৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২রা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

সরকারের সিদ্ধান্ত: ৯ হাজার ধর্মীয় ও শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ

সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ধর্মীয় ও অন্যান্য শূন্য পদে মোট ৯ হাজার শিক্ষকের নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) তেজগাঁওয়ের প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের কবরী হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য দেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমীন। একই সভায় বর্তমান সরকারের দুই মাস পূর্তির প্রেক্ষিতে সরকারের ৬০টি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ তুলে ধরা হয়।

প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখপাত্র জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের খেলার মাঠ শিশু-কিশোরদের জন্য উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। উপজেলা পর্যায়ে ছয়টি খেলায় প্রতিটি খেলায় তিনজন করে—মোট ১৮ জন—ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগ শুরু হয়েছে এবং মহানগর এলাকায় উন্মুক্ত খেলার মাঠের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করা হবে বলে জানান তিনি।

শিশু-কিশোরদের প্রতিভা অন্বেষণের প্রতিযোগিতা ‘নতুন কুঁড়ি’ পুনরায় চালু করা হয়েছে; এ বছর প্রথমবারের মতো ক্রীড়া ও কোরআন তিলাওয়াত একযোগে সংযুক্ত করা হচ্ছে। তাছাড়া জাতীয় সংসদের গ্যালারিতে শিক্ষার্থীদের জন্য ১৫০টি আসন বরাদ্দ এবং দেশব্যাপী বইপড়াকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে বেসরকারি খাতের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

ড. মাহদী আমীন আরও বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই লাখ শিক্ষার্থীর মাঝে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস, জুতা ও পাটের তৈরি ব্যাগ বিতরণের কার্যক্রম চলছে। বিভিন্ন স্কুলে পর্যায়ক্রমে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ পরিকল্পনার পাইলট কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’, কারিগরি শিক্ষা, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি যুক্ত করে শিক্ষাক্রম সমৃদ্ধ করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

মাদরাসা শিক্ষাকে যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে স্মার্ট ক্লাসরুম স্থাপন, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং কারিগরি কোর্স অন্তর্ভুক্তির কথাও উল্লেখ করেন উপদেষ্টা। পাশাপাশি স্পোর্টস কার্ড ও স্পোর্টস অ্যালাউন্স কর্মসূচিও চালু করা হয়েছে; এর ফলে ইতোমধ্যে শতাধিক ক্রীড়াবিদকে ভাতা দেওয়া হয়েছে।

সরকারের এই প্যাকেজ শিক্ষার প্রবেশদ্বার বাড়ানো, মান উন্নয়ন ও শিশুসুলভ পরিবেশ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে নেয়া একটি ব্যাপক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।