ঢাকা | বুধবার | ৮ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৪শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৩শে মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

হরমুজ প্রণালীতে আইআরজিসির ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুই বাণিজ্যিক জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালিতে মধ্যরাতে পরিচালিত ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। হামলা সোমবার (৬ জুলাই) মধ্যরাতে ঘটে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে। হতাহত হওয়ার কোনো খবর পাওয়া যায়নি, তবে জাহাজ দুটি উল্লেখযোগ্য ক্ষতির মুখে পড়েছে।

যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য কার্যক্রম সংস্থা (ইউকেএমটিও) জানায়, ওমানের লিমা অঞ্চল থেকে প্রায় ৮ নটিক্যাল মাইল পূর্বে একটি ট্যাংকার দক্ষিণমুখী চলাচলের সময় অজ্ঞাত একটি প্রজেক্টাইল সেটির বাম পাশে আঘাত করে। আঘাতের ফলে দ্রুতই জাহাজটিতে আগুন জ্বলে ওঠে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আক্রান্ত জাহাজগুলোর মধ্যে একটি ছিল কাতারভিত্তিক নাকিলাতের মালিকানাধীন ‘আল রেকায়াত’, যা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহন করছিল। প্রজেক্টাইলটি জাহাজের ইঞ্জিন রুমের ওপরের অংশে আঘাত হেনায় সেখানে অগ্নিকাণ্ড ও ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়। পরে জানা গেছে, জাহাজের সব নাবিক নিরাপদে রয়েছেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে হামলার ঠিক আগেই আইআরজিসি সামুদ্রিক রেডিও নিয়ে ওই এলাকায় চলাচলরত জাহাজগুলোকে সতর্ক করে বলেছিল যে নির্দেশনা অমান্য করলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হবে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল সেই সতর্কবার্তার একটি রেকর্ডিং উদ্ধৃত করেছে, যা হামলার পরিকল্পিত পরিচয় দেয়।

মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে, তবে তাত্ক্ষণিক আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি। এই ঘটনার পর ওই এলাকায় আমেরিকা ও মিত্র দেশগুলোর নৌ-টহল জোরদার করা হয়েছে।

হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম সংবেদনশীল সমুদ্রপথ, যেখানে প্রতিদিন ব্যাপক পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন হয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, এখানে বাণিজ্যিক জাহাজে সরাসরি হামলা আন্তর্জাতিক নৌ-আইনের গুরুতর লঙ্ঘন এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। এ ধরনের ঘটনা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করার আশঙ্কা বাড়ায়।

আক্রমণের পর সংশ্লিষ্ট দেশগুলো এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত ও যৌথ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। উদ্ধারকারী ও তদন্তকারী দলগুলো বর্তমানে আক্রান্ত জাহাজগুলোর ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।