জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান নিজের প্রথম ভাষণে বিশ্বমঞ্চে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠা, টেকসই উন্নয়ন দ্রুত সম্পন্ন করা, মানবাধিকার রক্ষা, এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ছয়টি মূল স্তম্ভের ওপর গঠিত একটি স্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা পরিকল্পনা পেশ করা হবে। ড. রহমান তার এই দায়িত্ব সংগঠনের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সমর্থনে গ্রহণ করেছেন বলে জানান, এবং এ ব্যাপারে তিনি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় তার এই পদের জন্য মনোনীত হওয়ায় তারেক রহমানের প্রতি ধন্যবাদ জানান ও দেশের দৃঢ় সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। নির্বাচনে তার পাশে থাকা দেশবাসী ও বিশ্ববাসীর প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। এছাড়াও, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আন্দ্রেয়াস কাকৌরিসের গঠনমূলক প্রচারণার প্রশংসা করে বলেন, এটি ভবিষ্যতের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জন্য অনুকরণীয় ভূমিকা রাখবে। ড. রহমান তার ভাষণে বর্তমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন, যেখানে তিনি উল্লেখ করেন যে, যখন জাতিসংঘ তার নবম দশকে প্রবেশের অপেক্ষায়, তখন সংস্থার প্রতি মানুষের আস্থা এক কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি। যুদ্ধ, মানবিক সংকট, অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা, মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতার পশ্চাদপসরণ এই সমস্ত বিষয় সমাধানের জন্য তিনি সব সদস্য রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। শান্তি ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তিনি বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা ও অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সাইপ্রাস থেকে সুদান পর্যন্ত বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা যে অবদান রেখেছেন, তা থেকে তিনি অনুপ্রেরণা পাবেন। তার মেয়াদে, শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য বৈঠক, রাজনৈতিক সমাধান খোঁজা, এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার কাজের ওপর গুরুত্ব প্রদান করবেন। তিনি নারী সদস্যদের শান্তি কার্যক্রমে আরও বেশি অংশগ্রহণে জোর দেন। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) প্রসঙ্গে ড. খলিলুর রহমান প্রকাশ করেন, এখনও লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অনেক দূর যাওয়ার প্রয়োজন। ২০২৭ সালের এসডিজি সম্মেলন ঘিরে তিনি নিরলস কাজ করে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। এর পাশাপাশি, এসডিজি বাস্তবায়নে অর্থায়নের অভাব দূর করা, আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামো সংস্কার, ঋণের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা এবং নারী ও কন্যাশিশুদের ক্ষমতায়নসহ অন্যান্য বিষয়েও মনোযোগ দেন। বিশেষ করে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য গৃহীত দোহা কর্মসূচি এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার রূপায়ণে তার বিশেষ দৃষ্টি থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।








