ঢাকা | বুধবার | ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে সমন্বিত উদ্যোগ: ১০৮ হটস্পট চিহ্নিত

রাজধানী ঢাকায় দীর্ঘদিনের সমস্যা জলাবদ্ধতা স্থায়ীভাবে সমাধানে ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন একযোগে বিভিন্ন স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী এই তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার জন্য সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছে।

সংসদে অবহিত করে মন্ত্রী বলেন, “রাজধানীর জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) ১০৮টি জলাবদ্ধতাপ্রবণ হটস্পট চিহ্নিত করে তাদের স্থায়ী সমাধানে কাজ করছে। একই সঙ্গে, ১০টি এলাকায় ২১টি কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) গঠন করা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, “এগুলো নিয়মিত পিট, ক্যাচপিট, ড্রেনেজ লাইন ও জলাবদ্ধ এলাকাগুলো পরিষ্কার করছে, এর ফলে বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা দ্রুত কমে আসছে।” অবকাঠামোগত উন্নয়নের বর্ণনা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, গত অর্থবছরে ডিএনসিসি ১১০ কিলোমিটারের বেশি রাস্তা ও নর্দমা নির্মাণ করেছে এবং আগামী অর্থবছরে আরও বিস্তৃত পরিসরে এই কাজ চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া, অবৈধ দখল রোধে খালের সীমানা নির্ধারণে ১,১৮১টি পিলার স্থাপন করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অপর দিকে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) সীমাবদ্ধতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, “বর্তমানে কমলাপুর টিটিপাড়া, ধোলাইখাল ও হাতিরঝিল—এই তিনটি আউটলেটের মাধ্যমে ১০৯.২৪ বর্গকিলোমিটার এলাকার বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন হয়, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।” এই সংকটের দ্রুত সমাধানে আরও দুটি নতুন আউটলেট নির্মাণের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে এবং বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে সদরঘাট পর্যন্ত একটি বৃহৎ নর্দমা তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, নিউমার্কেট, গ্রিন রোড ও শান্তিনগরসহ ৩৩টি প্রধান জলাবদ্ধ এলাকা চিহ্নিত করে সেখানে নিয়মিত নর্দমা পরিষ্কার ও পাম্প স্থাপনের কাজ চলমান। একই সঙ্গে, সরকারি অর্থায়নে কালুনগর, শ্যামপুর, জিরানী ও মান্ডা খালের সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

এছাড়া, প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার সংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী জানান, প্রবাসীদের জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে আইটি-নির্ভর বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন প্রথমবারের মতো আইটি-সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থা চালু করেছে।” আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে এই সুবিধা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি। সংসদে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সকাল ১১টা ৪ মিনিটে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অধিবেশন শুরু হয়।