যুক্তরাষ্ট্রের এক আদালত বিলিয়ন ডলার আত্মসাত ও প্রতারণার মামলায় চীনা ধনকুবের গুও ওয়েনগুইকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। একসময় নিজেকে চীনের অন্যতম ধনী ও রাজনৈতিক বিতর্কিত ব্যক্তিদের মধ্যে গণ্য করা হতো গুওকে।
গুও চীনে থাকাকালে রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় সম্পৃক্ত ছিলেন। ২০১৭ সালে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যান। তখন তিনি অভিযোগগুলো মিথ্যা বলে দাবি করে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেন এবং চীনা কমিউনিস্ট পার্টি ও সরকারের কড়া সমালোচক হিসেবে নিজেকে তুলে ধরেন।
যুক্তরাষ্ট্রে তার অনলাইন উপস্থিতি দ্রুত বাড়ে এবং অনুগত অনুসারীর একটি গোষ্ঠীও তৈরি হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, প্রতারণা, অর্থ আত্মসাত ও অর্থশিল্পে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠতে থাকে। অভিযোগ অনুযায়ী তিনি চীনে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নাম করে ভক্ত-সমর্থকদের কাছ থেকে ২০১৮ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে এক বিলিয়ন বা ১০০ কোটি ডলারেরও বেশি অর্থ সংগ্রহ করেন।
আদালতের বিচারক অ্যানালিসা টরেসের রায়ে বলা হয়েছে, যারা চীনে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করছিলেন, তাদের আপসহীনভাবে শোষণ করে গুও বৃহৎ পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। অভিযোগের বরাতে জানা যায় যে গুও সেই টাকা নিজের বিলাসবহুল জীবনযাপনের জন্য ব্যবহার করেছেন—৫০ হাজার বর্গফুটের একটি প্রাসাদ, এক মিলিয়ন ডলারের একটি ল্যাম্বরগিনি এবং প্রায় ৩৭ মিলিয়ন ডলারের একটি বিলাসবহুল ইয়ট কিনেছেন বলে মামলায় বলা হয়েছে।
রায় ঘোষণার সময় গুওর অনেক সমর্থক আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত ছিলেন। রায়ের পর বাদীপক্ষের আইনজীবী শন এস বাকলি বলেন, “লোভে পড়ে গুও হাজার হাজার মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসের অপব্যবহার করেছেন। আজকের সিদ্ধান্ত প্রমাণ করেছে যে খ্যাতি ও সম্পদ কাউকে আইনের ঊর্ধ্বে রাখতে পারে না।” তিনি আরও বলেন, যারা নিজের স্বার্থে পরিবারসহ অনেকে শিকার বানাতে দ্বিধা করেন না, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি জরুরি।
তবে দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার পরও গুও অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন। তিনি বলছেন, ভক্ত ও সমর্থকদের দেয়া অর্থ রাজনৈতিক ক্রিয়াকলাপ, বিশেষ করে চীনে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় ব্যবহার করা হয়েছে। মামলার ফাইল ও রায়ে প্রকাশিত তথ্যসমূহে তার এই দাবি নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
এই মামলায় গুওর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ, তার দেশত্যাগ, যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক পরিচয়ের ফেরাগামীতা এবং নগদের ব্যবহার—সব মিলিয়ে বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবে নজর কেড়েছে। আদালতের এই তীব্র রায় বিতর্ক ও প্রশ্ন উত্থাপনের পাশাপাশি ভক্ত-সমর্থক এবং অপরাধের শিকারদের জন্যও সিদ্ধান্তের একটি মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।







